আঁধারে ডুবে বাংলাদেশ, দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং! বিপাকে তারেক সরকার

তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে জেরবার গোটা বাংলাদেশ। দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে বহু কলকারখানা, মাথায় হাত পড়েছে চিংড়ি চাষিদেরও। পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে বিদ্যুৎ বাঁচাতে রাত ৮টার মধ্যে সমস্ত বাজার, দোকানপাট, শপিং মল, মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অতীতেও নানা সময়ে জ্বালানি সঙ্কট বা গ্রিড বসে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও, বর্তমানের এই ভয়াবহ রূপ এর আগে দেখা যায়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কার্যত হাত তুলে নিয়েছে প্রশাসন। দেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রাকৃতিক গ্যাসের যে টার্মিনালে আগুন লেগেছিল, তা সম্পূর্ণ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই। মন্ত্রীর সাফ কথা, সরকার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এই মুহূর্তে তাঁদের আর কিছু করার নেই, কারণ চাইলেও গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমান সঙ্কটের জেরে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ১৩ হাজার মেগাওয়াটে। এই বিপুল ঘাটতি মেটাতে শেষ পর্যন্ত ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে তারেক রহমানের সরকার। ইতিমধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ভারতের সঙ্গে থাকা পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র অভাবই এই বর্তমান জ্বালানি সঙ্কটের প্রধান কারণ। গত ২১ জুলাই আমেরিকান সংস্থা পরিচালিত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে এই ঘাটতির সূত্রপাত হয়। পাশাপাশি, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ আটকে থাকায় আমদানিও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। যার জেরে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জেরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভের পাশাপাশি নীলফামারি, সৈয়দপুর এবং কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের অফিসে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরাও। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও মেলা বন্ধ রাখার পাশাপাশি আলোকসজ্জা কমানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল এবং ওষুধের দোকানের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিকে এই কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।