মালদা জেলা পরিষদে মেগা ফাইট! ১৭ আগস্ট অনাস্থা ভোটাভুটির আগে দুই শিবিরের গোপন ডানা মেলার লড়াই তুঙ্গে

আর মাত্র তিনটে দিনের অপেক্ষা। আগামী ১৭ আগস্ট মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতাসীন বোর্ডের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। শাসক দলের অন্দরের দুই গোষ্ঠীর কোন্দল এবং অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত গোটা রাজ্য রাজনীতি। বর্তমান বোর্ড ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে নাকি নতুন বোর্ড গঠিত হবে, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে চরম জল্পনা।
গোপন আস্তানায় দুই শিবির: তৃণমূলের অন্দরের এই লড়াইয়ে যুযুধান দুইপক্ষই নিজেদের সমর্থক সদস্যদের নিয়ে রাজ্যের দুই প্রান্তে গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছে। দুই শিবিরই প্রকাশ্যে জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে দল ভাঙানোর খেলায়। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সভাধিপতির শিবির বিক্ষুব্ধদের একজনকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে। পালটা জবাব দিতে দেরি করেনি বিক্ষুব্ধ শিবিরও, তারাও শাসক পক্ষের এক সদস্যকে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে সমতা বজায় রেখেছে।
সংখ্যার খেলা ও ডার্কহর্স বিজেপি-কংগ্রেস: ৪৩ আসনবিশিষ্ট মালদা জেলা পরিষদে বোর্ড গঠন বা রক্ষা করতে গেলে অন্তত ২২ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে ঘাসফুলেরই ১৭ জন সদস্য অনাস্থা এনেছিলেন। এর সঙ্গে ৫ জন কংগ্রেস সদস্যের সমর্থন যোগ হওয়ায় বোর্ডের পতন একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ঘোড়া কেনাবেচা এবং দলবদলের খেলায় সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের ভূমিকা নিয়ে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিজেপির পক্ষ থেকে নাকি শর্ত দেওয়া হয়েছে যে সভাধিপতির পদটি তাদের ছেড়ে দিলে তবেই তারা অনাস্থা ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারে। যদিও বিজেপির জেলা সদস্য তারাশংকর রায় এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, দলের রাজ্য নেতৃত্বই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, কংগ্রেস সদস্য সায়েম চৌধুরীর রহস্যজনক মন্তব্য—”তলবি সভা তো সবে ট্রেলার, পিকচার বহুত বাকি হ্যায়”—পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
১৭ আগস্টের এই তলবি সভায় কে শেষ হাসি হাসবে এবং কোন দিকে মোড় নেবে মালদার রাজনীতি, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।