GST-এর নতুন রূপে স্বস্তি! স্বাস্থ্য ও জীবন বিমায় করের হার কমলো, ক্রেতা ও বিক্রেতার চাপানউতোর

সারা দেশে আজ থেকে চালু হয়েছে নতুন জিএসটি (GST) ব্যবস্থা। চার-স্তরের কর হার (৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%) বদলে এখন প্রধানত দুটি স্তর—৫% এবং ১৮%—কার্যকর হবে, যার ফলে সাধারণ পণ্য ও পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী হবে। এই সংস্কারের ফলে ওষুধ এবং জীবন বীমার প্রিমিয়ামে জিএসটি কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।

GST সংস্কারের কৃতিত্ব কার?
এই জিএসটি সংস্কারের কৃতিত্ব নিয়ে এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে এই সংস্কার শুধুমাত্র তার উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে জিএসটি সংস্কারের জন্য তিনি প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মমতাকে ‘হরিদাস পাল’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, মমতা নিজেকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন, আসলে তিনি ততটা নন। শুভেন্দুর মতে, এই সংস্কার সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপহার, যা তিনি নবরাত্রির সময় দেশকে দিয়েছেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আজ বাগুইহাটির বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জিএসটি সংস্কারের সুফল তুলে ধরেন। তবে কিছু দোকানে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। কিছু ব্যবসায়ী পুরোনো স্টকের ওপর নতুন জিএসটি হার কার্যকর করতে রাজি নন, যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

বিরোধী দল ও বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত
এই নতুন জিএসটি ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেও বিজেপি নেতৃত্ব তা মানতে নারাজ। এদিকে, বিজেপি শাসিত ওড়িশাতেও বিজু জনতা দল (বিজেডি) এই সংস্কারের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ১২% কর কমিয়ে ৫% করা হলেও, ইনপুট ক্রেডিটের অভাবে ছোট ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ করতে এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি করেন।

মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অর্থনীতি, সব ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই সংস্কার কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা সময়ই বলে দেবে।