‘আমাকে মেরে ফেলুন, আমি আর পারব না’, কাজের চাপে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কাটোয়ার বিএলও, তোলপাড়

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের পাহাড় প্রমাণ চাপে এবার প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশেষ প্রশিক্ষণের সময় বিএলও অ্যাপে ভোটারদের তথ্য আপলোড করার নির্দেশ শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কাটোয়ার ৭৯ নম্বর বুথের বিএলও দেবাশিস দাস। তাঁর এমন অবস্থা নাড়া দিয়েছে সতীর্থদেরও।

কান্নায় আত্মহত্যার ইঙ্গিত

দেবাশিস দাস নামে ওই বিএলও কাঁদতে কাঁদতে উচ্চস্বরে বলেন, “আমি পারব না। আমারে মেরে ফেলুন।” কাজের চাপের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সামনে কার্তিক পুজো আছে। এক একটা এন্ট্রি করতে গেলে ১৫ মিনিট করে টাইম লাগছে। ১১০০ ভোটার কী করে ফিলাপ করব? আমার না আছে স্নান, না আছে খাওয়া। আমার ফ্য়ামিলি লাইফ শেষ হয়ে গিয়েছে। কালকে আমি ভাবছিলাম গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যাব। আমার চাকরি দরকার নেই। আপনারা আমাকে শোকজ করুন। আমাকে গুলি করে দিন।” জানা গিয়েছে, তিনি শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও এসআইআর ফর্ম বিলি করেছিলেন।

বিক্ষোভ ও ট্রেনিং ক্যাম্প ত্যাগ

তাঁর এই চরম মানসিক চাপের ঘটনা সামনে আসার পরই প্রশিক্ষণ শিবিরে আসা বিএলও-দের একাংশ প্রশাসনিক কর্তাদের সামনেই কাজের চাপ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কয়েকজন কর্মী কাটোয়া ১ নম্বর বিডিও অফিসে চলা ওই প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে বেরিয়েও যান। এই ঘটনায় তীব্র চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ—বলছে প্রশাসন

পরিস্থিতি সামাল দিতে কাটোয়ার এসডিও অনির্বান বসু জানিয়েছেন, “আমরা ওনাদের যা কাজ করতে বলেছি সবটাই কমিশনের নির্দেশ মেনে। কাটোয়া মহকুমার তিনটি বিধানসভার বিএলওদের ডেকে বিএলও অ্যাপ ও বিলি করা এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে বলেছি। কীভাবে সেগুলি ডিজিটাইজ হবে তার জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৯০ শতাংশের উপরে বিএলও হাজির ছিলেন।” তবে একজন বিএলওর এমন মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশাসন কোনো মন্তব্য করেনি।