‘আমার স্ত্রী বেঁচে রয়েছে অন্য কারও হৃদয়ে’, অঙ্গদানের পর বাঁকুড়ার তিমিরবাবুর একলা জীবন ‘পরিপূর্ণতায়’ ভরা

স্ত্রীকে হারানোর মর্মান্তিক বেদনা নিয়েও অন্যভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন বাঁকুড়া শহরের মনোহরতলার বাসিন্দা তিমির কুমার দে। গত বছর একটি পথ দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মৌসুমী দের ব্রেন ডেথ হয়েছিল। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদান করে তিমিরবাবু আজীবন তাঁর স্ত্রীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
অঙ্গদান করে স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণ
২০২৪ সালের ২১ জুলাই একটি পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বেসরকারি চাকুরিজীবী তিমির কুমার দের স্ত্রী মৌসুমী দে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ব্রেন ডেথ হয়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিমির কুমার দে অঙ্গদান করার মতো মহৎ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর হৃদপিণ্ড, কর্নিয়া এবং চামড়া দান করেন।
তিমিরবাবু জানান, কথার ছলে স্ত্রী মৌসুমী দে একবার তাঁকে অঙ্গদান করার কথা বলেছিলেন। স্ত্রীর সেই ইচ্ছে পূরণ করতে গিয়েই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যের হৃদয়েই মৌসুমী দে
তিমির কুমার দে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন যে তাঁর স্ত্রী মৌসুমী দে এখনও তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন, তবে ভিন্ন রূপে। তিনি জানিয়েছেন, মৌসুমী দের হৃদপিণ্ডটি হরিয়ানার গুরগাঁওতে এক ৩৬ বছরের যুবকের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট) করা হয়েছে।
তিমিরবাবুর কথায়, “আমার স্ত্রী বেঁচে রয়েছে অন্য কারও হৃদয়ে। এভাবেই থাকুক না সে!” তিনি আজও স্ত্রীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলেন, তবে বিশ্বাস করেন, “দৈহিকভাবে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে না থাকলেও, তাঁর শক্তি রয়েছে। তাই হয়তো আমি এখনও সবকিছু করতে পারছি একা হাতে।”
সচেতনতার দৃষ্টান্ত তিমিরবাবু
বৃদ্ধ মায়ের দেখাশোনা, রান্নাবান্না এবং অন্যান্য সব কাজ এখন তিমিরবাবু একাই সামলান। তিনি একাকী জীবন কাটালেও, তাঁর এই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত সমাজের কাছে একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। অঙ্গদান যে শুধু একটি মহৎ কাজ তা নয়, এর মাধ্যমে একজনের অঙ্গ অন্যের জীবন বাঁচাতে পারে। তিমিরবাবুর মতো মানুষেরা রক্তদানের পাশাপাশি অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমাজের কাছে একান্ত কাম্য।