BLO নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ শুভেন্দুর, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অস্থায়ী শিক্ষককে বুথ লেভেল অফিসার করায় বিতর্ক

আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের নরায়ণগড় বিধানসভা এলাকার ২৪ নম্বর বুথে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একজন অস্থায়ী শিক্ষককে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার নীতিকে সরাসরি আঘাত করছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
বিরোধী দলনেতা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট বুথটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সানদেউলি অঞ্চলের অন্তর্গত। সেখানে অস্থায়ী শিক্ষক সুধাদেব মহাপাত্রকে BLO পদে নিয়োগ করা হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, সুধাদেব মহাপাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ কর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।
যোগ্য সরকারি কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন অস্থায়ী নিয়োগ?
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, ওই বুথে স্থায়ী প্রাথমিক শিক্ষক এবং ICDS কর্মী সহ চারজন যোগ্য সরকারি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অস্থায়ী শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি নাম উল্লেখ করে বলেন:
স্থায়ী প্রাথমিক শিক্ষক: ভোলানাথ কুইল্যা (বুরহা আমারদা প্রাইমারি স্কুল) ও শুভেন্দু দোলই (বেনাডিহা প্রাইমারি স্কুল)।
ICDS কর্মী: অনিমা নায়েক (পুতরাঙ্গি ICDS সেন্টার) ও মিনতি ঘোড়াই (সানদেউলি ICDS সেন্টার)।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই চারজন যোগ্য সরকারি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাউকে না বেছে কেন সুধাদেব মহাপাত্রকে BLO হিসেবে নিযুক্ত করা হলো।
CEO, WB-কে জরুরি পদক্ষেপের অনুরোধ
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO, West Bengal) উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “আমি মাননীয় CEO West Bengal-কে অনুরোধ করছি, যেন অবিলম্বে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে একজন যোগ্য সরকারি কর্মীকে BLO হিসেবে নিয়োগ করা হয়, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।”
এই অভিযোগের পর প্রশাসনিক মহলে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম থেকে থাকে, তা হলে অবিলম্বে সংশোধন করা হবে।”
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে বরাবরের মতোই ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলীয় মুখপাত্রের দাবি, নিয়োগের সব প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারী মিথ্যা অভিযোগ তুলে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধন ও সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়াতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।