‘বস স্ক্যাম’-এর ফাঁদে সর্বস্বান্ত হতে পারেন আপনি! সাবধান করল রাজ্য পুলিশ, জানুন বাঁচার উপায়

অনলাইন প্রতারণার দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে সাইবার অপরাধীরা। এবার তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্পোরেট কর্মীরা। প্রতারণার এই নতুন রূপের নাম ‘বস স্ক্যাম’ (Boss Scam)। এই নতুন ধরনের প্রতারণা থেকে নাগরিকদের সতর্ক করতে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ।

কী এই ‘বস স্ক্যাম’? প্রতারকরা সাধারণত আপনার কর্মক্ষেত্রের সিইও (CEO) বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে। ফোন, ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মেসেজের মাধ্যমে তারা এমনভাবে কথা বলে বা বিষয়টিকে উপস্থাপন করে, যা আপনার কাছে অত্যন্ত জরুরি এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। তারা হঠাৎ বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন দেখিয়ে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করে। কর্মীরা সাধারণত বসের নির্দেশ বা অনুরোধ ভেবে যাচাই না করেই টাকা পাঠিয়ে দেন, আর ঠিক তখনই প্রতারকরা পুরো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে ফেলে।

প্রতারণার কৌশল থেকে কীভাবে বাঁচবেন? রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে:

  • সরাসরি যাচাই করুন: যদি আপনার অফিসের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর্থিক সাহায্য চান, তবে কোনো কিছু না ভেবে টাকা দেবেন না। সরাসরি ওই ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো মাধ্যমে (যেমন অফিসের নম্বর বা পরিচিত ব্যক্তিগত নম্বর) যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

  • খুঁটিয়ে দেখুন: যে নম্বর থেকে ফোন বা ইমেল এসেছে, তার বানান বা ইমেল অ্যাড্রেস ভালো করে পরীক্ষা করুন। প্রতারকরা অনেক সময় আসল ঠিকানার মতো দেখতে ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে। সামান্য খুঁটিনাটি পার্থক্য থাকলেই তা বুঝে নিন।

  • তথ্য শেয়ার করবেন না: অফিস সংক্রান্ত গোপন তথ্য বা নিজের ব্যাঙ্ক ও কার্ড সংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

  • সময় নিন: প্রতারকরা সবসময় তাড়াহুড়ো করার চাপ তৈরি করবে। শান্ত থাকুন, তাড়াহুড়ো করবেন না। মাত্র কয়েক মিনিটের যাচাইকরণই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

প্রতারিত হলে কী করবেন? যদি মনে হয় আপনি কোনো ফাঁদে পা দিয়েছেন বা সন্দেহজনক কিছু ঘটছে, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। দেরি না করে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল-এ অভিযোগ জানান। প্রয়োজনে দ্রুত ১৯৩০ (1930) নম্বরে কল করুন।

রাজ্য পুলিশের স্পষ্ট বার্তা—সতর্কতাই সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ। সামান্য অসাবধানতাই আপনার সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ নিমেষে শেষ করে দিতে পারে।