মহরমের তাৎপর্য কী? কেন আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়?

ইসলামিক ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহরম। বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এটি নতুন বছরের সূচনা, তবুও মহরমের প্রথম দশটি দিন বিষাদ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহম্মদের (সা.) দৌহিত্র ইমাম হুসেন (রা.) এবং তাঁর ৭২ জন সঙ্গী ইসলামের সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ে যে অসামান্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, এই দিনগুলি তারই স্মারক।
মহরমের দশম দিনটি ‘আশুরা’ হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ আশুরা পালিত হলেও, ভারতে আগামীকাল ২৬ জুন, শুক্রবার এটি পালিত হবে। মহরমের অন্যতম প্রধান প্রতীক হলো ‘তাজিয়া’। এটি কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসেনের মকবারার একটি প্রতীকী আদল। বাঁশ, কাঠ, কাগজ ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ দিয়ে অত্যন্ত কারুকার্যের মাধ্যমে এই তাজিয়া তৈরি করা হয়। মহরমের শুরু থেকেই বাড়ি বা ইমামবাড়ায় তাজিয়া রাখা হয় এবং আশুরার দিন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তা দাফন করা বা শোভাযাত্রা সহকারে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাজিয়াকে কেন্দ্র করেই মহরমের শোকের অনুষ্ঠানগুলো আবর্তিত হয়। অজাখানা ও ইমামবাড়ায় এই সময় মজলিস, মাতম ও নোহা পাঠের মাধ্যমে কারবালার সেই ট্র্যাজেডি স্মরণ করা হয়। পুরুষ ও নারীরা পৃথকভাবে শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মূলত সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা যোগাতেই এই ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিগুলো পালন করা হয়।