‘বোমা মারার’ হুমকি! শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় পাটিলের বিতর্কিত মন্তব্যে সরগরম মহারাষ্ট্রের রাজনীতি

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) সাংসদ সঞ্জয় দিনা পাটিলের বিতর্কিত মন্তব্য। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অত্যন্ত অভদ্র ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে ডোম্বিভালি থানায় সাংসদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী।
কী ঘটেছিল? জানা গেছে, গত ২৫ জুন, ২০২৬, বুধবার সাংবাদিকরা সাংসদ সঞ্জয় পাটিলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল গালিগালাজ করছেন এবং বলেন, “আমার কাজে নাক গলাচ্ছ কেন? আবারও যদি আসো, তবে তোমাদের মেরে ফেলব।” এছাড়াও, সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘বোমা মারার’ এবং ‘বাড়িতে ঢুকে মেরে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সাংসদের এই আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত মুম্বাই পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি লিখে সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাউতের অভিযোগ, সঞ্জয় পাটিল অতীতেও ‘পাঁচজনকে খুন করেছেন’ বলে দাবি করেছিলেন। এই ধরনের হিংসাত্মক ভাষা সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধী মানসিকতার পরিচয় দেয় বলে তাঁর দাবি।
চাপে শিন্ডে সরকার এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে মহাযুতি জোট সরকার অস্বস্তিতে পড়েছে। চাপ বাড়তেই উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সাংসদ সঞ্জয় পাটিলকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিন্ডে জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য সাংসদের ছিল না, তবে তাঁর শব্দচয়ন যদি কাউকে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে তিনি ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশও এই ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ঠাকরে গোষ্ঠী বিষয়টি কেবল ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর কল্যাণ লোকসভা জেলা সভাপতি অভিজিৎ সাওয়ান্তের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে ‘বোমা’র মতো শব্দ ব্যবহারের নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
শিবসেনার অন্দরে ভাঙন এবং দলবদলের জল্পনার মধ্যেই সঞ্জয় পাটিলের এই বিতর্কিত ভূমিকা রাজ্য রাজনীতির অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।