৩ লাখের বদলে ৮ লাখ! সিনেমার কায়দায় পুরুলিয়ায় টাকার ডবল ফাঁদ, সর্বস্ব হারালেন এক ব্যক্তি

দিন দিন সাইবার প্রতারণার জাল যেন আরও রহস্যময় এবং সুনিপুণ হয়ে উঠছে। অপরাধীদের নিত্যনতুন ফন্দিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তবে সম্প্রতি পুরুলিয়ায় যে ধরনের প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তা শুনে রীতিমতো অবাক খোদ পুলিশ প্রশাসনও। বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ফির হেরা ফেরি’র সেই বিখ্যাত সংলাপ—‘২১ দিনে টাকা ডবল’—এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনায় এক ব্যক্তি লোভের ফাঁদে পা দিয়ে খোয়ালেন লক্ষাধিক টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। পুরুলিয়ার আদ্রা থানা এলাকার এক বাসিন্দা একটি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির ফোন পান। ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা প্রস্তাবটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং প্রলোভনপূর্ণ। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর কাছে একবারে ৮ লক্ষ টাকা নগদ রয়েছে, যার সবটাই ১০০ টাকার নোটে। মাত্র ৩ লক্ষ টাকা দিলেই সেই ৮ লক্ষ টাকার পুরোটাই তিনি দিয়ে দেবেন। এক ঝটকায় কয়েক গুণ অর্থ লাভের প্রলোভন সামলাতে পারেননি ওই ব্যক্তি। তিনি ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।
অভিযোগকারীর বয়ান অনুযায়ী, প্রবঞ্চকরা প্রথমে তাঁকে পুরুলিয়ার মফস্বল থানার চাষ মোড়ে যেতে বলেছিল। পরে সেই স্থান পরিবর্তন করে টামনা মোড়ে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী সেই নির্দেশ মেনে টামনা মোড়ে পৌঁছালে সেখান থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে স্টেশন রোডের দিকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই আরও দু’জন ব্যক্তি অপেক্ষমাণ ছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁরা অত্যন্ত তাড়াহুড়োর সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা চেয়ে নেয়। প্রলোভনের বশে তিনি বিনাবাক্যে ওই ব্যক্তিদের হাতে নগদ টাকা তুলে দেন। এরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁকে একটি কাপড়ে মোড়া ব্যাগ জাতীয় বস্তু ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
ব্যাগটি হাতে নিয়ে টাকা পাওয়ার আনন্দে কিছুটা দূরে গিয়ে ব্যাগটি খুলতেই অভিযোগকারীর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। কাপড়ে মোড়া ওই ব্যাগের ভেতরে কোনো টাকা তো ছিলই না, বরং ছিল স্তূপাকার কাগজ। তিনি মুহূর্তেই বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দ্রুত টামনা থানায় গিয়ে ওই ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশও তাজ্জব বনে গেছে। প্রতারকদের এই অদ্ভুত কৌশল সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, “মানুষ যদি সচেতন না হয় এবং লোভে পড়ে অপরিচিত ব্যক্তির পাতা ফাঁদে পা দেয়, তবে ক্ষতি হওয়া অনিবার্য। সাইবার প্রতারণা বা টাকার ডবল হওয়ার প্রলোভন—সবই অপরাধীদের জালিয়াতির অংশ। সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অনুরোধ, লোভের বশে এ ধরনের অদ্ভুত প্রস্তাবে সাড়া দেবেন না। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির আর্থিক প্রলোভনে পা না দেওয়াই এখনকার দিনে বুদ্ধিমানের কাজ।”
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রতারকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল যে, তড়িঘড়ি বড়লোক হওয়ার অশুভ আকাঙ্ক্ষাই অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে।