‘মায়ের নামে গাছ’! জলপাইগুড়িতে অরণ্য সপ্তাহ পালনে নতুন রেকর্ড, ৩ লক্ষ গাছ লাগানোর বিশাল পরিকল্পনা

জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে শুরু হলো এক বিশাল সবুজায়ন কর্মসূচি। ‘অরণ্য সপ্তাহ’ উদযাপন উপলক্ষে জেলাজুড়ে ৩ লক্ষ চারাগাছ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বন দফতর ৫০ হাজার চারাগাছ সফলভাবে বিতরণ করেছে, যা জেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এই উদ্যোগকে ঘিরে মঙ্গলবার জেলা পরিষদ চত্বর থেকে তিস্তা উদ্যান পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজিত হয়।

বন দফতরের উদ্যোগে জেলা পরিষদের হলঘরে আয়োজিত অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডিএফও জিজু জেসপার জে, গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের ডিএফও দ্বীজপ্রতিম সেন, মুখ্য বনপাল টিটি ভুটিয়া, স্থানীয় সাংসদ জয়ন্তকুমার রায় এবং জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। অনুষ্ঠানে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ বা ‘মায়ের নামে একটি গাছ’—এই বার্তাকে পাথেয় করেই আমরা জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বিধানসভায় ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর কর্মসূচি নিয়েছি। শুধু গাছ লাগানোই নয়, গাছগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে, যাতে প্রতিটি চারাগাছ বড় হয়ে ওঠে।” সাংসদের মতে, অতীতের কোনো সরকার এভাবে গুরুত্ব সহকারে সবুজায়নের কাজে নামেনি, যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি বিধানসভার বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী তাঁর এলাকায় গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে এক বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার বিধানসভা এলাকায় ৬ হাজার চারাগাছ লাগানোর প্রাথমিক কর্মসূচি নিলেও, এই লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছি।” বিধায়কের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র লোকালয়েই নয়, জঙ্গলের ফাঁকা জায়গাগুলোতেও গাছ লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিএফও জিজু জেসপার জে জানিয়েছেন, জেলাজুড়ে ৩ লক্ষ চারাগাছ বিতরণের কাজ জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি, গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের ডিএফও দ্বীজপ্রতিম সেন জানান, গরুমারা জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ৮৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে ঘাসবন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা বন্যপ্রাণীদের খাদ্যের জোগান দেবে। জলপাইগুড়ির এই সামগ্রিক সবুজায়ন কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।