৩ বার এড়ানোর পর সিজিও-তে রথীন! নিয়োগ দুর্নীতির জট খুলতে প্রাক্তন মন্ত্রীকে ম্যারাথন জেরা ইডির

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (Enforcement Directorate) মুখোমুখি হলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষ। শুক্রবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে পৌঁছন তিনি। এর আগে মোট তিনবার ইডির তলব এড়ালেও, এদিন শেষপর্যন্ত তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হলেন এই হেভিওয়েট নেতা। রথীন ঘোষের এই হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, রথীন ঘোষ যখন পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলকে জেরা করার সময় রথীন ঘোষের নাম সামনে আসে বলে ইডি সূত্রে খবর। অভিযোগ উঠেছে, অযোগ্য প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। এই মামলার শিকড় সন্ধানেই তাকে বয়ান দিতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ যখন তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন, তখন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে রথীন ঘোষ বলেন, “আমাকে কেন ডাকা হয়েছে আমি জানি না। ভেতরে যাওয়ার পর হয়তো বুঝতে পারব কেন তলব করা হয়েছে।” যদিও তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এর আগে নির্বাচন এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি পাঁচবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন। কিন্তু মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁর বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিপূর্বেই ইডির স্ক্যানারে এসেছিলেন আরও এক হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু। সুজিত বসুকেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছিল। রথীন ঘোষের ক্ষেত্রেও ইডি আধিকারিকরা তাঁর বয়ান এবং অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি পান কি না, সেটাই এখন দেখার। সূত্রের খবর, এদিন রথীন ঘোষের বয়ান ভিডিওগ্রাফি করা হতে পারে এবং একাধিক নথিপত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হতে পারে। নিয়োগ দুর্নীতির এই জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানাই এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy