রাস্তায় প্রস্রাব করতে মানা করাই কাল! প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে ইট-পাথর দিয়ে পিটিয়ে খুন—সিসিটিভিতে ভয়ঙ্কর দৃশ্য!

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক নৃশংস ও লজ্জাজনক ঘটনার জেরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামান্য একটি প্রতিবাদের জেরে কাকদেব থানা এলাকার ওম স্কোয়ারে চার মদ্যপ যুবকের নির্মম মারধরের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সি এক বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ী, যার নাম অমিত কুমার প্রেম। প্রকাশ্যে রাস্তায় মদ্যপদের অসভ্যতামি থামানোর খেসারত দিতে হলো ওই ব্যবসায়ীকে নিজের জীবন দিয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার গভীর রাতে অফিস বন্ধ করে নবীন নগরের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন অমিত। ঠিক সেই সময়ই ওম স্কোয়ারের কাছে এক দল যুবক মদ্যপ অবস্থায় প্রকাশ্যেই হট্টগোল শুরু করে এবং তাদের মধ্যে একজন রাস্তায় প্রস্রাব করতে শুরু করে। পেশায় বিজ্ঞাপন সংস্থা চালক অমিত কুমার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সরাসরি ওই যুবকদের এমন কাজের প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই মদ্যপ যুবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওই ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে চারদিক থেকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আশেপাশের কিছু স্থানীয় মানুষ অমিতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওই দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করেও এলোপাথাড়ি ইট ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। আতঙ্কে লোকজন পিছু হটলেও নরপিশাচের দল থেমে থাকেনি এবং অমিতের ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় অনুরাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার গভীর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অমিত কুমার।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিহতের পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায় এবং ময়নাতদন্ত কেন্দ্রের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা। ঘটনার সম্পূর্ণ দৃশ্যটি এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। সেই ফুটিজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে কানপুর ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও কাকদেব থানার পুলিশ। জনসমক্ষে এই ধরনের আইনভঙ্গ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।