২৬ বছরের কারাবাস শেষ! গ্রাহাম স্টেইনস হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত দারা সিং কি শীঘ্রই মুক্ত? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তোলপাড়

ওড়িশার কেওনঝর জেলা কারাগারের দীর্ঘ ২৬ বছরের বন্দিদশা শেষে অবশেষে মুক্তির আলোর দিকে এগোচ্ছেন কুখ্যাত অপরাধী দারা সিং। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান মিশনারি গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টেইনস এবং তাঁর দুই নাবালক পুত্র ফিলিপ ও টিমোথিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত দারা সিংয়ের মুক্তি নিয়ে এখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আইনি চর্চা। ওড়িশা রাজ্য দণ্ড পর্যালোচনা বোর্ড তাঁর মুক্তির সুপারিশ করার পর, এখন পুরো বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

১৯৯৯ সালের ২২শে জানুয়ারি ওড়িশার কেওনঝর জেলার মনোহরপুরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব। গ্রাহাম স্টেইনস এবং তাঁর দুই ছেলে ফিলিপ ও টিমোথি একটি খ্রিস্টান সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে গাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। অভিযোগ, দারা সিংয়ের নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা বাইরে থেকে গাড়িটি তালাবন্ধ করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। উন্মত্ত জনতার মুখে সেই সময় “জয় বজরং দল” স্লোগান শোনা গিয়েছিল। পরে তদন্তে উঠে আসে, স্টেইনসের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার কোনো ভিত্তিই ছিল না; উল্টো তিনি কুষ্ঠরোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

২০০৩ সালে নিম্ন আদালত দারা সিংকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও, ২০০৫ সালে ওড়িশা হাইকোর্ট সেই রায় কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে, যা ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টও বহাল রাখে। গত ২৬ বছর ধরে দারা সিং প্যারোল ছাড়াই কারাবাস করছেন। ওড়িশা সরকারের বর্তমান দণ্ড মওকুফ নীতি অনুযায়ী, যেসব বন্দীর মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়েছে, তারা ২৫ বছর কারাভোগের পর মুক্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। সেই নিয়ম মেনেই গত ৬ই জুলাই দণ্ড পর্যালোচনা বোর্ডের বৈঠকে দারা সিংয়ের মুক্তির বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে দারা সিংয়ের আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আদালত ১৫ই আগস্টের মধ্যে মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং ১৯শে আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। দারা সিংয়ের আইনজীবী এপি সিং জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ঠিকানা যাচাইয়ের কাজ করছে এবং আদালত চাইছে দারা সিংকে যেন দ্রুত মুক্ত করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত কি আদৌ কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এক বীভৎস অধ্যায়ের শেষে দারা সিংয়ের এই সম্ভাব্য মুক্তি বিচার ব্যবস্থার এক জটিল মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।