মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! অনশনকারীর প্রাণ বাঁচাতে এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ সমাজকর্মী, তুঙ্গে চাঞ্চল্য

দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের চলমান অনশন আন্দোলন আজ ১৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তাঁর এই লড়াই আজ এক চরম সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সমাজকর্মী তথা আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন। এই মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো, অবিলম্বে সোনম ওয়াংচুকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তাঁর জীবন রক্ষা করা।
মামলায় আবেদনকারী অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৮.৫ কেজি হ্রাস পেয়েছে। রাকেশ কুমার সাইনির আশঙ্কা, অনশন এভাবেই চলতে থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সোনম ওয়াংচুকের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই ঘটনা ঘটলে তা দেশের কাছে এবং বিশ্ব দরবারে এক অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে আবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থ মামলাটিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সরকার সোনম ওয়াংচুকের সাথে একজন দাগী অপরাধী, সন্ত্রাসী কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহীর মতো আচরণ করছে। একজন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীর প্রতি সরকারের এই অমানবিক নীরবতা ও সহমর্মিতার অভাবকে মামলার বয়ানে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম কর্তব্য হলো তাঁকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও তরল খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সরবরাহ করা।
আবেদনকারী তাঁর পিটিশনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের বিবেক হয়তো সুপ্ত হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু বিচারব্যবস্থার বিবেক এখনও জাগ্রত। আদালতের কাছে তিনি প্রার্থনা করেছেন, যেন সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার্থে দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ করা হয়।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে যন্তর মন্তরে অনড় অবস্থানে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। মূলত নিট (NEET) পরীক্ষার দুর্নীতি ও অনিয়মকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। অনলাইনে শুরু হওয়া এই হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি আজ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সোনম ওয়াংচুকের এই অটল মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের অসংখ্য মানুষ ও বুদ্ধিজীবীরাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন আদালতের নির্দেশই শেষ কথা বলবে—সোনম ওয়াংচুকের এই প্রতিবাদী জীবন কি তবে প্রশাসনকে কোনো আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পারবে, নাকি অমানবিকতার জেরেই বিপন্ন হবে এক কর্মঠ শিক্ষাবিদের জীবন?