মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! ১৮ দিন পেরিয়েও অনড় অবস্থান, কেন্দ্রকে বড় চ্যালেঞ্জ আন্দোলনকারীদের

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অনশন আন্দোলন আজ ১৮তম দিনে পা দিল। শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াই আজ এক চরম সংকটময় মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ক্রমাগত অনশনের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। চিকিৎসকদের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, টানা এই লড়াইয়ে তাঁর শরীরে পেশির ভর (Muscle Mass) আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে এবং ওজন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৮.৫ কেজিরও বেশি। বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ ১০৭/৭০ মিমি এইচজি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা মাত্র ৬৭ মিগ্রা/ডেসিলিটার, যা যেকোনো সময় বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ২৮ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট (NEET) পরীক্ষার জালিয়াতির তদন্তের দাবিতে এই আন্দোলনে শামিল হন ওয়াংচুক। এটি তাঁর অনশনের ১৮তম দিন হলেও, সামগ্রিক আন্দোলনের ২৬তম দিন চলছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “সোনম ওয়াংচুকের জীবন শুধু দেশের নয়, গোটা বিশ্বের কাছে মূল্যবান। মানবতা, পরিবেশ এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আমাদের সকলের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।”

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। কেজরিওয়াল আগামী বৃহস্পতিবার সশরীরে যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও উদ্বেগ প্রকাশ করে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। গত সোমবার যন্তরমন্তরে অরুন্ধতী রায়, নাসিরুদ্দিন শাহ ও জয়তী ঘোষের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়ে সংহতি জানিয়েছেন।

এত অনুরোধ সত্ত্বেও ওয়াংচুক নিজের দাবিতে অনড়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। বরং সরকারকে গিয়ে প্রশ্ন করুন, তারা কেন একটা সামান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও বসতে ভয় পাচ্ছে?”

আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য এখন আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশন। সিজেপি এবং সোনম ওয়াংচুকের সমর্থকরা ওই দিনই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এক বিশাল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই আন্দোলন থেকে পিছু হঠতে নারাজ। দিল্লির তীব্র গরমে কেবল সোনম ওয়াংচুক নন, আইসা (AISA)-র একাধিক ছাত্র আন্দোলনকারীও একই দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পাঠাতে হয়েছে। সরকার শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে আসে, নাকি আন্দোলনের আঁচ সংসদের দরজায় পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।