২৩ বছরে রাজ্যে ভোটার বৃদ্ধি ৬৭%! মালদহ-উত্তর দিনাজপুরে দ্বিগুণ কেন? বিস্ফোরক পরিসংখ্যান দিয়ে SIR বিরোধিতা নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন অগ্নিমিত্রা পাল!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন চরম উত্তেজনা, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, গত ২৩ বছরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই বৃদ্ধি সমানভাবে হয়নি, বরং সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে, যা রাজ্যের জনসংখ্যার বিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে।বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন।অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধির পরিসংখ্যানঅগ্নিমিত্রা পালের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সালে প্রথম SIR শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের সামগ্রিক ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে ৬৭.২৮ শতাংশ। কিন্তু জেলাভিত্তিক চিত্রটি আরও চমকে দেওয়ার মতো:জেলাভোটার বৃদ্ধির হার (২০০২ থেকে ২০২৫)মালদহ৯৫%উত্তর দিনাজপুর১০৫% (দ্বিগুণেরও বেশি)উত্তর ২৪ পরগনা৮৩%জলপাইগুড়ি৮২%দক্ষিণ ২৪ পরগনা৭২%কলকাতামাত্র ৪%বিজেপি নেত্রীর দাবি, এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসংখ্যাই সবচেয়ে দ্রুত বদলেছে।তৃণমূল আমলে কেন এই বৃদ্ধি?অগ্নিমিত্রা পাল সময়কালের ভিত্তিতে ভোটার বৃদ্ধির হার বিশ্লেষণ করে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:২০০২ থেকে ২০০৯: ভোটার বৃদ্ধি ১২%।২০০৯ থেকে ২০১৭: ভোটার বৃদ্ধি ২১.৮% (সর্বাধিক)।২০১৭ থেকে ২০২৫: ভোটার বৃদ্ধি ১২%।তাঁর দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে, অর্থাৎ ২০১১ সালের পর যখন রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিষ্কার, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালের প্রাথমিক পর্বেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে।SIR বিরোধিতা নিয়ে কটাক্ষঅগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এসআইআর নিয়ে এতটা চিন্তিত, সেটাই এখন পরিষ্কার হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভোটার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে জনসংখ্যার বিন্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে ভূত তাড়াতে হবে।”বিজেপি নেত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজ্যের শাসক দলের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।