২২,০০৬ কোটির লোন মাত্র ৬.৫ কোটিতে মাফ? NCLT-র নির্দেশে ঘুম উড়ল সুভাষচন্দ্রের

দেশজুড়ে চলা তীব্র জাদরেল আর্থিক বিতর্কের মাঝেই এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের ঋণ নিষ্পত্তি মামলায় বড়সড় ধাক্কা দিল ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইবুনাল (NCLT)। গত ২৫ অগাস্টের বিতর্কিত নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে এনসিএলটি-র বিশেষ বেঞ্চ। একইসঙ্গে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্যারেন্টার হিসেবে সুভাষ চন্দ্র তাঁর কোনো সম্পত্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারবেন না।

এর আগে এনসিএলটি-র একটি আদেশে ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ মাত্র ৬.৫ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাঙ্কিং মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। জানা যায়, এই বিপুল পরিমাণ ঋণ সরাসরি সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত লোন ছিল না, বরং তিনি এর করপোরেট গ্যারেন্টার ছিলেন। ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফাইন্যান্সের করা দেউলিয়া মামলার ভিত্তিতে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকায় এত বড় অঙ্কের ঋণ মেটানোর এই সিদ্ধান্ত কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।

পূর্ববর্তী ওই রায়ে বিচারকদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় এবং স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিষয়টি পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সেই বিশেষ বেঞ্চ আগের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়েছে, মামলাটি নতুন করে পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং এই মুহূর্তে ওই রায় কার্যকর করা যাবে না। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুভাষ চন্দ্রকে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ও করপোরেট মহলের নজর এখন এই হাই-প্রোফাইল দেউলিয়া মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই।