“মর্গে মর্গে ঘুরেও ছেলের খোঁজ নেই!”-নেপালে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে কান্না বাবার

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উত্তরের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল। আর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই খোঁজ মিলছে না ১৯ বছরের তরুণ বিনোদের। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে দক্ষিণ নেপালের তেরাই অঞ্চলের সপ্তরি জেলা থেকে সুদে টাকা ধার করে রাজধানীর উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছেন তাঁর বাবা তালকা সাদার। পকেটে মাত্র দু’হাজার নেপালি রুপিরও কম অর্থ নিয়ে হাসপাতালের মর্গে মর্গে এবং সেনা ক্যাম্পের দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই অসহায় পিতা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে দিনমজুরের কাজ করতেন বিনোদ। বিপর্যয়ের ঠিক একদিন আগেই ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর হড়পা বানে সব ভেসে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ বিনোদ সহ আরও চার তরুণ। ছেলের খোঁজে ভাইসহ দীর্ঘ ২৯২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রথমে কাঠমান্ডু এবং পরে নুওয়াকোটের ত্রিশূলি শহরে পৌঁছান সাদার। ভাঙাচোরা সড়ক ও কাদা মাড়িয়ে দিনের পর দিন হেঁটে চলা এই বাবার পরনে রয়েছে মলিন শার্ট ও বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে গায়ে জড়ানো পলিথিনের ব্যাগ।
স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা ক্যাম্পের বিরুদ্ধে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাদার জানিয়েছেন, গরিব মাধেশি সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণে তাঁদের বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ঠিকমতো সাহায্য করা হচ্ছে না। এদিকে সর্বস্বান্ত হয়ে এবং পকেটের শেষ টাকা ফুরিয়ে আসার উপক্রম হলেও ছেলের একটু খোঁজ পেতে বা তাঁর মৃতদেহটি একবার দেখতে মরিয়া হয়ে পাহাড়ের পথে পথে ঘুরে চলেছেন এই বাবা। একটাই আকুতি—জীবিত বা মৃত, যেভাবেই হোক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ঘরে ফেরাবেন।