দু’দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান। ২০০৫ সাল থেকে টানা ১০ বার বিহারের হাল ধরা নীতীশ কুমার অবশেষে ইতি টানলেন তাঁর মুখ্যমন্ত্রী জমানায়। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক সেরে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তিনি। এর সাথেই বিহারের রাজনীতিতে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়— প্রথমবারের মতো পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ক্ষমতায় বসতে চলেছে বিজেপি।
সম্রাটের হাতে বিহারের চাবিকাঠি
নীতীশ কুমারের ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিহার বিজেপির বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নাম ঘোষণা করা হলো বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর। মঙ্গলবার বেলা ৩টে নাগাদ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শিবরাজ সিং চৌহান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম ঘোষণা করেন। ফলে বিহারের পরবর্তী এবং প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন সম্রাট চৌধুরী।
কেন ইস্তফা দিলেন নীতীশ?
বিস্ফোরক কোনও কারণ নয়, বরং সাংবিধানিক নিয়ম মানতেই এই সরে দাঁড়ানো। গত ১৬ মার্চ নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি একই সাথে বিধানসভা ও সংসদের সদস্য থাকতে পারেন না। গত ১০ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর আজ তিনি পদত্যাগ করলেন। জানা গেছে, ১, অ্যান মার্গের সরকারি বাসভবন ছেড়ে নীতীশের নতুন ঠিকানা হতে চলেছে ৭, সার্কুলার রোড।
বিদায়বেলায় আবেগী নীতীশ
পদত্যাগের পর সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন নীতীশ কুমার। তিনি লেখেন:
“২০০৫ সাল থেকে এনডিএ সরকার বিহারে আইনশৃঙ্খলার শাসন কায়েম করেছে। আমরা হিন্দু-মুসলিম, উচ্চবর্ণ-দলিত নির্বিশেষে সকলের উন্নয়নের কাজ করেছি। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের যে নীল নকশা আমরা তৈরি করেছি, তা বিহারকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাবে।”
বিজেপির জয়জয়কার
নীতীশের বিদায়ের সাথে সাথে বিহারে কার্যত একক শক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের পথে বিজেপি। সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে দল কীভাবে নতুন বিহার গড়ার কাজ করে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই পটপরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।





