দীর্ঘ টালবাহানার পর গত ৯ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে ১০০ দিনের কাজ (MGNREGS) প্রকল্প। কেন্দ্র সরকার জুন মাসের জন্য রাজ্যের অনুকূলে ৭০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং ১.৫৩ কোটি কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে প্রকল্প চালুর কয়েকদিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য, যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নবান্ন।
রাজ্যের হাজার হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি পঞ্চায়েতে কাজ শুরু হয়েছে। এই মন্থর গতিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসককে কঠোর নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অবিলম্বে অন্তত ২ থেকে ৩টি করে প্রকল্প শুরু করতে হবে।
এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দফতর থেকে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জব কার্ড যাচাই (Verification), e-KYC সম্পন্ন করা, সুপারভাইজারদের তথ্য আপডেট করা এবং দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় জব কার্ডগুলো পুনরুজ্জীবিত করা। এছাড়াও জিও-ট্যাগিং, বকেয়া পেমেন্ট যাচাই এবং এনআরইজিএ-সফট (NREGASoft) পোর্টালে ডেটা আপডেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখনও অনেক ক্ষেত্রে বকেয়া রয়েছে।
নবান্নের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন কাজের অগ্রগতির পর্যালোচনা করতে হবে এবং কোনোভাবেই গাফিলতি সহ্য করা হবে না। এই বিষয়টিকে সরকারিভাবে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ তকমা দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ সময় পর রাজ্যে এই প্রকল্প ফের চালু হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখেছিল সাধারণ মানুষ। একসময় দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার চাইছে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে।
দুর্নীতিমুক্ত কাজ নিশ্চিত করাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য। তাই কেবল কাজ শুরু করাই নয়, প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজের গতি না বাড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে।





