বাঙালির ভ্রমণপিপাসু মনের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ছুটির সুযোগ পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া বাঙালির রক্তে মিশে আছে। তবে অতিমারি পরবর্তী সময়ে এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে পর্যটনের খরচ নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পর্যটকদের কপালে ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। সেই চিন্তার মেঘ কাটাতে এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসলেন রাজ্য সরকারের নতুন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মন্ত্রীর লক্ষ্য, ভ্রমণ যেন কেবল বিলাসিতার বিষয় না হয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে থাকে।
গত ১২ জুন পর্যটন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের মূল মন্ত্র এখন ‘ট্যুরিজম ফর অল’। মন্ত্রীর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য হল ট্যুরিজম ফর অল ক্লাসেস। অর্থাৎ একেবারে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষ যেন পর্যটনের স্বাদ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করাই আমাদের অগ্রাধিকার।” প্রধানমন্ত্রীর পর্যটন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়িত করে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তুলে ধরাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শঙ্কর ঘোষের উত্থান বেশ নাটকীয়। একদা সিপিএম ঘরানা থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শঙ্করবাবু শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র গৌতম দেবকে পরাজিত করে রাজনৈতিক মহলে চমক দিয়েছিলেন। নিজের রাজনৈতিক গুরু অশোক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিধানসভায় পা রাখা শঙ্কর ঘোষ এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার অন্যতম ভরসা। পর্যটন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অসীম সম্ভাবনাকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর।
পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শঙ্কর ঘোষকে নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর কর্মদক্ষতা। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে পর্যটন শিল্পে তিনি যে আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন, তা আমজনতার মধ্যে খুশির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। পর্যটনকে কেবল কিছু নির্দিষ্ট দর্শনীয় স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের সুপ্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে ‘গ্লোবাল ম্যাপ’-এ স্থান দিতে গেলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রচারের পাশাপাশি বাজেটের দিকে নজর দেওয়াটা খুব জরুরি। শঙ্কর ঘোষের এই ‘ট্যুরিজম ফর অল’ স্লোগান যদি বাস্তবের মাটিতে সফলভাবে কার্যকর হয়, তবে পর্যটন শিল্প পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠবে। রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টায় মন্ত্রী কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় পর্যটনপ্রেমী সাধারণ মানুষ।





