“হার স্বীকার করতে হবে”-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পরেই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন সুশান্ত-অরূপ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার আরও জোরালো হলো। একদিকে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগ এবং অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ইস্তফা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকের পরদিনই এই জোড়া ধাক্কা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

যাঁরা পদ ছাড়লেন:

  • কাকলি ঘোষ দস্তিদার: সাংসদ পদে থেকেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব ও রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

  • সুশান্ত ঘোষ: কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার তিনি পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন।

  • অরূপ চক্রবর্তী: তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী পুরসভার ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটি’র সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

  • এর আগেই ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস।

পদত্যাগী নেতাদের বিস্ফোরক দাবি: পদত্যাগের পর সাংবাদিক বৈঠকে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে মানুষের রায় মেনে নেওয়া উচিত। অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যদি আমরা এই হার মেনে না নিই, তবে অতীতের সব জয় মিথ্যে হয়ে যায়। দলের সাধারণ কর্মীরা ঘরছাড়া, অথচ শীর্ষ নেতারা নিখোঁজ।”

সুশান্ত ঘোষের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে দলের অনেক নেতা-মন্ত্রী সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, কিন্তু দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে নেই। তাঁদের কথায়, “মানুষ আমাদের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে, এটা বুঝতে হবে। মানুষ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমরা পালন করতে পারছি না।” পাশাপাশি, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে কর্মীদের ঘরে ফেরানোর বিষয়েও তাঁরা মন্তব্য করেছেন।

কী বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা? পদত্যাগী কাউন্সিলরদের দাবি, দল বললে তাঁরা কাউন্সিলর পদ থেকেও ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। সুশান্ত ঘোষের হুঁশিয়ারি, “পরবর্তী সময়ে হয়তো আরও অনেক কাউন্সিলর আমাদের এই পথেই হাঁটবেন।” আপাতত গঠনমূলক বিরোধিতার বার্তাই দিয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের এই ভিভিআইপি সংস্কৃতি এবং দলীয় কর্মীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগেই এই ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ বলে জানিয়েছেন পদত্যাগীরা। এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরের গভীর ক্ষোভ এবং আসন্ন ভাঙনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy