“সদস্য সংখ্যা ৪০০ পেরিয়ে গেলে এখানে বসা সম্ভব নয়!” নতুন বিধানসভা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে চর্চা

কেন্দ্রে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর হওয়ার পর লোকসভার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভাতেও যে আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, সেই জল্পনা অনেক দিন ধরেই চলছিল। আর এবার সেই জল্পনায় পুরোপুরি সিলমোহর পড়ে গেল। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের জন্য একটি একেবারে সম্পূর্ণ নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে ডিলিমিটেশন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ভবিষ্যতে আসন সংখ্যা বাড়লে বর্তমান প্রাচীন ভবনে স্থান সংকুলান হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন— “নতুন বিধানসভা তৈরি করতে হবে, লোকসভার মতো। ডিলিমিটেশন বা মহিলা সংরক্ষণের পরে আসন বাড়বে। বর্তমান ভবনটি একটি হেরিটেজ বিল্ডিং, ফলে ভবিষ্যতে সদস্য সংখ্যা ৪০০ পেরিয়ে গেলে এখানে আর বসা সম্ভব হবে না।” একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি রাজ্য বিধানসভায় অর্থমন্ত্রীকে সাক্ষী রেখে আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান যে, এই মেগা প্রকল্পের কাজের জন্য অর্থের কোনো অভাব হবে না।
কেন প্রয়োজন নতুন বিধানসভা ভবনের?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে আসন বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া আসছে, তাতে আগামী দিনে প্রতিটি রাজ্যের বিধায়ক সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনটি একটি ঐতিহাসিক হেরিটেজ স্থাপত্য হওয়ায়, সেখানে পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ বা আসন সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যাতে নতুন আসন বিন্যাসের পর জনপ্রতিনিধিদের বসার জায়গা বা অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যপরিচালনায় কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক ও দূরদর্শী ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আলোচনা শুরু হয়েছে।