আই-প্যাক (I-PAC) কর্তা বিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরাসরি বিজেপিকে ‘কাপুরুষ’ বলে দেগে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি।
চন্দ্রিমার কড়া আক্রমণ: রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন যে, বিজেপি জানে ২০২৬-এর নির্বাচনে তাদের হার নিশ্চিত। তিনি বলেন:
“বিজেপির ময়দানে লড়াই করার ক্ষমতা নেই। তাই ওরা এজেন্সি পাঠিয়ে আমাদের নির্বাচনী কৌশলী ও আই-প্যাককে দমানোর চেষ্টা করছে। এটা ওদের চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ। একজন বিনেশ চান্ডেলকে ধরলে লড়াই থামবে না, হাজার হাজার কর্মী পথে নামবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর পালটা তোপ: তৃণমূলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আইন সবার জন্য সমান। শুভেন্দু বলেন:
“আই-প্যাক হোক বা তৃণমূল নেতা—দুর্নীতি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেলেই এজেন্সি পদক্ষেপ করবে। চোর ধরলে তৃণমূলের কেন এত গাত্রদাহ হচ্ছে? আসলে ওদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, তাই এখন বাঁচার জন্য এসব সাফাই দিচ্ছে।”
রাজনৈতিক সমীকরণ: আই-প্যাক যেহেতু তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের নীল নকশা তৈরি করে, তাই এই সংস্থাকে ঘিরে ইডি-র তৎপরতা তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে, বিজেপি এই ইস্যুটিকে ‘দুর্নীতি বনাম স্বচ্ছতা’-র লড়াই হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: ভোটের আগে আই-প্যাক কর্তার গ্রেফতারি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দলের এই বাগযুদ্ধ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ‘মরিয়া’ তকমা এবং শুভেন্দুর ‘তদন্ত’ তত্ত্ব— এই দুইয়ের মাঝে ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকে থাকেন, সেটাই এখন দেখার।





