স্কুল না কি টর্চার সেল? অভিভাবককে ‘শূকর’ বলে গালিগালাজ নারী অধ্যক্ষের, ভিডিও ভাইরাল হতেই পুলিশি অ্যাকশন!

উত্তরপ্রদেশের হারদোই থেকে লখনউ—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বর্তমানে গোটা রাজ্য প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। হারদোইয়ের সানবিম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ মমতা মিশ্রের হাতে এক নারী অভিভাবকের জনসমক্ষে চরম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে যোগী প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে এবং স্কুলটির স্বীকৃতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা দফতর।

তুচ্ছ কারণে চরম অসভ্যতা:
ভুক্তভোগী অভিভাবক নীলম ভার্মা জানান, তিনি তাঁর মেয়ে আলিশার জন্য স্কুলের নির্দেশমতো সমস্ত পাঠ্য উপকরণ কিনেছিলেন। তা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে অতিরিক্ত ১,২০০ টাকা দিয়ে আরও চারটি খাতা কিনতে চাপ দেয়। অভাবের সংসারে কিছুটা সময় চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানাতে গেলে মেজাজ হারান মমতা মিশ্র। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি ওই অভিভাবককে ১০ বারেরও বেশি ‘চুপ কর’ বলে ধমক দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নীলমকে ‘জঘন্য বোকা’, ‘শূকর’ এবং ‘অভদ্র’ বলে গালিগালাজও করেন ওই অধ্যক্ষ।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হারদোই সিটি থানায় মমতা মিশ্রের বিরুদ্ধে SC/ST আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (BSA) অজিত সিং স্কুলটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের আচরণ ও স্কুলের শিক্ষা পরিবেশ অত্যন্ত নিম্নমানের।

বড় শাস্তির মুখে সানবিম স্কুল:
তদন্তের স্বার্থে অধ্যক্ষ মমতা মিশ্রকে অবিলম্বে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খাতা কেনার জন্য অবৈধ চাপ এবং অভিভাবকদের সাথে চূড়ান্ত অভদ্র আচরণের কারণে স্কুলটির সরকারি স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান বেসরকারি স্কুলগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধে এক বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy