আগামীকাল ১৯ এপ্রিল, পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া। চিরাচরিত প্রথা মেনে আমরা সোনা কিনি ঠিকই, কিন্তু আধুনিক সময়ে সোনা কেনা কেবল প্রথা নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী বিনিয়োগের হাতিয়ার। আকাশছোঁয়া দামের এই বাজারে কীভাবে সোনা কিনলে আপনার লোকসান হবে না এবং দীর্ঘমেয়াদে মোটা টাকা আয় হবে, তার সুলুকসন্ধান দিলেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন সোনা কেনা এখন সবচেয়ে লাভজনক?
বিগত কয়েক বছরের ট্রেন্ড বলছে, সোনা বিনিয়োগকারীদের নিরাশ করেনি। গত ৫ বছরে অক্ষয় তৃতীয়া থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সোনা গড়ে ৩০% রিটার্ন দিয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা মজুত করার প্রবণতা এর দামকে আরও উস্কে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: একবারে নয়, কিনুন ‘ধীরে ধীরে’
বাজার বিশেষজ্ঞ সুনীল কাটকে ও চিরাগ মেহতার মতে, এখন সোনার দাম উচ্চস্তরে রয়েছে। তাই এককালীন অনেকটা সোনা না কিনে ‘Buy on Dips’ কৌশল মেনে চলুন।
অল্প দিয়ে শুরু: অক্ষয় তৃতীয়ার দিন শুভ কাজের সূচনা হিসেবে সামান্য সোনা কিনুন।
দাম কমলে কেনা: যখনই বাজারদর সামান্য কমে, তখন বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ান। এতে আপনার কেনা সোনার গড় মূল্য (Average Cost) কম থাকবে।
পোর্টফোলিও ব্যালেন্স: আপনার মোট বিনিয়োগের অন্তত ১৫-২০ শতাংশ সোনাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
বিনিয়োগের সেরা পদ্ধতিগুলো কী কী?
গয়না পরার শখ মেটানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য এখন জনপ্রিয় হচ্ছে এই পদ্ধতিগুলো: ১. সোনা ও রুপোর মুদ্রা: এগুলো আগে থেকে বুকিং করে রাখলে নির্দিষ্ট দামে পাওয়ার সুবিধা থাকে। ২. হালকা ওজনের গয়না: মেকিং চার্জ কম হওয়ার কারণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগুলো লাভজনক। ৩. ডিজিটাল গোল্ড বা গোল্ড ইটিএফ: গয়না রাখার ঝুঁকি এড়াতে এবং সরাসরি বাজারের দামের সুবিধা পেতে এটি সেরা বিকল্প।
বাজারের বর্তমান চিত্র
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সুদের হারের ওঠানামার কারণে সোনার দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ৫-১০% পর্যন্ত দামের পতন বা স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ শুরু করার মোক্ষম সময় হলো অক্ষয় তৃতীয়া।





