লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণে অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন ভাষায় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোকে আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, একটি সৎ প্রচেষ্টাকে সংসদীয় রাজনীতির প্যাঁচে ফেলে ‘হত্যা’ করেছে বিরোধীরা।
“এটি একটি ভ্রূণহত্যা”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিরোধীদের জোটকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করে বলেন:
“সরকারের এই বিল উত্থাপন ছিল দেশের নারীশক্তির জন্য একটি সৎ ও পবিত্র প্রচেষ্টা। কিন্তু কংগ্রেস, তৃণমূল (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টির (SP) মতো দলগুলো সমগ্র জাতির সামনে এই স্বপ্নের ভ্রূণহত্যা করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই দলগুলো কেবল রাজনীতির অপরাধী নয়, এরা দেশের সংবিধান এবং নারীশক্তির কাছেও অপরাধী।
কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী?
উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আইনসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের পথ প্রশস্ত করতে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি পাস করাতে ব্যর্থ হয় সরকার।
ভোটের অংক: বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। কিন্তু বিল পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ভোট।
বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ১ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র ভাষণে বুঝিয়ে দেন যে, কংগ্রেস ও তার মিত্র শক্তিগুলো আসলে নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকেই মনে-প্রাণে ঘৃণা করে। তাঁরা চায় না দেশের অর্ধেক আকাশ ক্ষমতায় আসুক। এই বিল আটকে দিয়ে তাঁরা কোটি কোটি মহিলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
আগামী দিনের লড়াই
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিল পাসে ব্যর্থ হলেও এই ইস্যুটিকে মোদী ২০২৬-এর আসন্ন নির্বাচনগুলোতে প্রধান অস্ত্র করতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যারা আজ নারীদের বঞ্চিত করে উৎসব পালন করছে, দেশের মানুষ ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের যোগ্য জবাব দেবে।





