বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। শনিবার ওমানের অদূরে ভারতীয় সুপারট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC)। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
মাঝসমুদ্রে পৈশাচিক হামলা: কী ঘটেছিল?
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী:
অতর্কিত গুলি: ওমানের ৩৭ কিমি উত্তর-পূর্বে কোশেম ও লারাক দ্বীপপুঞ্জের মাঝে ভারতীয় জাহাজের বহরকে লক্ষ্য করে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায় ইরানের দুটি গানবোট।
ক্ষতিগ্রস্ত সুপারট্যাঙ্কার: ইরাক থেকে ২ মিলিয়ন (২০ লক্ষ) ব্যারেল তেল নিয়ে আসা একটি VLCC সুপারট্যাঙ্কারের সামনের কাচ ইরানের গুলিতে চুরমার হয়ে গিয়েছে।
ফিরে এল ১৩টি জাহাজ: ভারতের দিকে আসা মোট ১৪টি জাহাজের একটি বহরকে আটকে দেয় ইরান। তার মধ্যে ১৩টি জাহাজকে জোরপূর্বক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাতটি জাহাজ বর্তমানে লারাক দ্বীপের কাছে আটকে রয়েছে।
একটি জাহাজের সাফল্য: উত্তেজনার মধ্যেই হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর জন্য তেল নিয়ে আসা একটি ভারতীয় জাহাজ সফলভাবে প্রণালী পার হতে পেরেছে।
দিল্লির কড়া পদক্ষেপ ও প্রতিবাদ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। ১. রাষ্ট্রদূত তলব: বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. মহম্মদ ফাথালিকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়। ২. কড়া বার্তা: ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী এই ‘অবন্ধুসুলভ’ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে ভারতীয় নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
বিপাকে ভারতীয় জ্বালানি সরবরাহ
আটকে পড়া ১৪টি জাহাজের মধ্যে ৭টিতেই ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। এই বহরে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) এবং সারও ছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই জাহাজগুলো আসতে না পারলে ভারতের জ্বালানি ও কৃষি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন এই আক্রমণ?
ইরানের সংবাদ সংস্থা IRIB এই খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। তবে বন্ধু দেশ ভারতের জাহাজে কেন গুলি চালানো হলো, তা নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।





