গোয়ার মনোরম সমুদ্রে রোমাঞ্চকর প্যারাশুট উড়ান যে জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পুষ্টিবিদ সুস্মিতা। পর্যটকদের জন্য ‘প্যারাডাইস’ হিসেবে পরিচিত গোয়ার সৈকতে সম্প্রতি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলেন তিনি। প্যারাসেলিং করার সময় মাঝ-আকাশে তাঁর গলায় দড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ার এক রুদ্ধশ্বাস ও আতঙ্কজনক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্য়েই ২.৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই ভিডিওটি দেখেছেন।
পেশায় পুষ্টিবিদ সুস্মিতা তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্যারাশুটে উড়তে উড়তে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি সমুদ্রের মাঝখানে আছড়ে পড়েন। কিন্তু আসল বিপদ ঘটে তখন, যখন প্যারাসেলিংয়ের শক্ত দড়িটি তাঁর গলার চারপাশে মারাত্মকভাবে পেঁচিয়ে যায়। জলের প্রবল চাপে সেই দড়ি ক্রমশ তাঁর শ্বাসরোধ করতে শুরু করে।
সুস্মিতা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “গোয়ায় প্যারাসেলিংয়ের এক মজার অভিজ্ঞতা হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটল সমুদ্রের মাঝখানে আমার চরম অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে। জলে পড়ে গেলাম, গলায় দড়ি, চারপাশে নিস্তব্ধতা আর তীব্র আতঙ্ক। যখন আপনি বুঝতে পারেন যে নিজের প্রাণের ওপর আর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, সেই অনুভূতি কোনও ক্যামেরাই ধরে রাখতে পারে না।”
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই পর্যটক জানান, তিনি অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিলেন যে কেউ একজন দেবদূতের মতো এসে তাঁকে সেই মরণফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “এই দ্বিতীয় সুযোগ সবাই পায় না। আমি হয়তো ফিরে এসেছি, কিন্তু সেই মুহূর্তের ট্রমা সারা জীবন থেকে যাবে।”
এই ঘটনার পর তিনি পর্যটকদের উদ্দেশ্যে এক কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সুস্মিতার মতে, যে কোনও জলক্রীড়া বা ওয়াটার স্পোর্টসে অংশ নেওয়ার আগে আয়োজকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লাইফ জ্যাকেটের গুণমান ভালো করে যাচাই করা উচিত। সামান্য অসতর্কতা যে কোনও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাঁর এই পোস্ট অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই গোয়ার পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।





