সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা অভিষেকের! চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার আবেদনে মিলল না স্বস্তি!

দেশের রাজনীতিতে ফের আইনি টানাপোড়েনের কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশযাত্রার আবেদন ঘিরে তৈরি হওয়া জট কাটেনি। কলকাতা হাইকোর্টের পর এবার দেশের শীর্ষ আদালতেও বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন তিনি। এর আগে চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাঁকে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম (SSKM)-এ গিয়ে চোখ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিল। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আর্জি সরাসরি মঞ্জুর না করে গোটা মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে, এই সংবেদনশীল বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এদিনের শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী তথা প্রবীণ আইনজ্ঞ গোপাল শংকর নারায়ণ আদালতের সামনে অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেন। তিনি দাবি করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৫০০-র বেশি বিভিন্ন মামলা ঝুলে রয়েছে। আইনজীবীর মূল যুক্তি ছিল, যদি এই অসংখ্য মামলার অজুহাত দেখিয়ে বা আইনি বেড়াজালের কারণে তাঁকে প্রতিবার বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়, তবে তাঁর স্বাভাবিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। অতীতেও আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি নিয়ে তিনি একাধিকবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং প্রতিবারই সমস্ত আইনি শর্ত মেনেই দেশে ফিরে এসেছেন। সুতরাং চোখের মতো একটি সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি কেন করা হবে, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আইনি লড়াই কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার বিদেশযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত অধিকারের এক দীর্ঘ সংঘাত। কলকাতা হাইকোর্ট ইতিপূর্বে জানিয়েছিল যে, বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে রাজ্যেরই অন্যতম সেরা সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এসএসকেএম হাসপাতালেই সমস্ত প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা সম্ভব। অন্যদিকে, সাংসদের আইনি দলের যুক্তি ছিল যে পছন্দমতো চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করানোর নাগরিক অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। এখন সমস্ত আইনি যুক্তিতর্ক খতিয়ে দেখে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট এই জটিল মামলার কী রায় দেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পান কি না, সেদিকেই এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর আটকে রয়েছে।