সুইগি-জোমাটোর দিন শেষ? খাবার ডেলিভারি বাজারে পা রাখছে ফ্লিপকার্ট!

ই-কমার্স বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের পর এবার সরাসরি অনলাইন ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় পা রাখতে চলেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট (Flipkart)। সুইগি (Swiggy) এবং জোমাটো (Zomato)-র শক্ত দুর্গে হানা দিয়ে দেশের খাদ্য সরবরাহের বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এই সংস্থা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যেই এই নতুন পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে পারে ফ্লিপকার্ট। ইতিমধ্যেই তাদের মূল প্ল্যাটফর্মে একাধিক খ্যাতনামা ও স্থানীয় রেস্তোরাঁকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সেক্টরে জোমাটো এবং সুইগির যৌথ একাধিপত্য বজায় রয়েছে। তবে সম্প্রতি র‍্যাপিডো তাদের নিজস্ব ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ‘ওনলি’ নিয়ে আসার পর বাজারে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লিপকার্টের বাজারে প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রেস্তোরাঁগুলিকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে আকর্ষণ করার জন্য ফ্লিপকার্ট এক অভিনব ও লোভনীয় কৌশল গ্রহণ করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফ্লিপকার্ট প্রতিটি অর্ডারের বিপরীতে রেস্তোরাঁগুলির কাছ থেকে মাত্র ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তুলনামূলকভাবে দেখতে গেলে, বর্তমানে জোমাটো এবং সুইগি সাধারণত রেস্তোরাঁগুলির থেকে ১৬ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া কমিশন আদায় করে থাকে। ফ্লিপকার্টের এই কম কমিশনের মডেলটি ছোট ও বড়—উভয় ধরনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই নতুন ব্যবসার জন্য ফ্লিপকার্ট কোনো প্রচলিত বা জটিল পরিকাঠামো তৈরির পথে হাঁটছে না। তারা ব্যবহার করবে সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগ ওএনডিসি (Open Network for Digital Commerce বা ONDC) প্ল্যাটফর্মটিকে। ওএনডিসি-র মূল লক্ষ্য হলো দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। এই সরকারি ওপেন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার ফলে ফ্লিপকার্টকে একেবারে শূন্য থেকে বিশাল ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে না, যার ফলে তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিষেবা চালু করতে সক্ষম হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লিপকার্ট তাদের এই ফুড ডেলিভারি পরিষেবাটি দেশের প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতেই চালু করার পরিকল্পনা করেছে। সংস্থার প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা প্রথমে নির্বাচিত কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহককে এই পরিষেবা প্রদান করবে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এই পরিষেবা দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলিতেও সম্প্রসারণ করা হবে। গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে জানানো হয়েছে যে, তারা মূল ফ্লিপকার্ট অ্যাপের পাশাপাশি একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমেই এই পরিষেবা উপভোগ করতে পারবেন।

ফ্লিপকার্টের এই পদক্ষেপে রেস্তোরাঁ ও গ্রাহক উভয়েই দারুণভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লিপকার্ট যদি সফলভাবে এই স্বল্প কমিশনের ব্যবসায়িক মডেল বাজারে টিকিয়ে রাখতে পারে, তবে রেস্তোরাঁগুলির অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই কমে যাবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সাধারণ গ্রাহকরা আরও আকর্ষণীয় অফার, কম ডেলিভারি চার্জ এবং বড় ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন। অন্যদিকে, এই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে জোমাটো এবং সুইগির মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলিকেও তাদের বর্তমান কমিশন নীতি এবং ব্যবসায়িক মডেলে বড়সড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে।