সিকিমে টানেল ধসে মর্মান্তিক বিপর্যয়! বিষাক্ত গ্যাস ও বিস্ফোরণে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কাঁপছে দেশ!

সিকিমের নামচি জেলার সমারডুং এলাকায় নির্মাণাধীন টানেলে আচমকা ভয়াবহ মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ও মর্মান্তিক ধসের জেরে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার দুপুরে শ্রমিকদের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি চলাকালীন এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। টানেলের গভীর অন্ধকারে এখনও বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি এবং অক্সিজেনের তীব্র অভাবের মতো মারাত্মক বাধা অতিক্রম করে সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছিল, ঘটনার সময় টানেলের ভেতরে ২৭ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন, যার মধ্যে দু’জন কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা ভেতরে আটকে পড়েন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। তাঁরা সমগ্র পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সরাসরি খতিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য প্রশাসন, সিকিম পুলিশ, এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কোথায় কী ধরনের গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোম্পানির কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত প্রতিটি ব্যক্তির পরিবারকে চার লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধারাজে তদারকি করতে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্ধার অভিযানের রোমহর্ষক ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের সুপারিন্টেনডেন্ট অভিজিৎ কুন্ডু বলেন যে, উদ্ধার হওয়া মানুষগুলির সকলেরই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও প্রায় সাত-আটটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে, যাদের বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে সেই মরদেহগুলিও বাইরে বের করে আনার কাজ চলছে। উত্তরবঙ্গের আইজি সুকেশ কুমার জৈন জানিয়েছেন যে, দুই রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় ও এনডিআরএফের নিরলস প্রচেষ্টায় উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।