রাজধানীতে চরম বিশৃঙ্খলা! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ধুন্ধুমার বিক্ষোভে একসঙ্গে ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, অবরুদ্ধ দিল্লি

রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত সোমবার থেকে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এড়াতে এবং জনরোষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তার আগাম সতর্কতা হিসেবে দিল্লির একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)। বুধবার পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে ডিএমআরসি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সম্পূর্ণভাবে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। এর আকস্মিক প্রভাবে অফিসযাত্রী, হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং দৈনন্দিন সাধারণ যাত্রীদের একাংশকে ব্যাপক ও নজিরবিহীন ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে প্রথম বিবৃতি জারি করে ডিএমআরসি জানায়, নিরাপত্তার কঠোর স্বার্থে জনপথ, রাজীব চক, প্যাটেল চক এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে রাজীব চক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন বদল বা ‘ইন্টারচেঞ্জ’ করার সুবিধা সীমিতভাবে চালু রাখা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর, বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে দ্বিতীয় বিবৃতি জারি করে ডিএমআরসি স্পষ্ট করে যে, মান্ডি হাউসেও ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা বহাল থাকবে। তবে সামগ্রিকভাবে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বড়খাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, আইটিও (ITO), দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম—এই ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ও প্রধান ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলি বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বহু যাত্রীকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হয়েছে, যার ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার নিট (NEET) কেলেঙ্কারির তীব্র প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের জোরালো দাবিতে যন্তর মন্তর থেকে ঐতিহাসিক ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচি আটকাতে তারা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের মারাত্মক অভিযোগ ওঠে, যার তীব্র ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দিল্লির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফের চরম থমথমে হয়ে ওঠে। প্রতিবাদের তীব্র আঁচে সংসদের বাদল অধিবেশনও দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায়। এরপর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ কংগ্রেস সাংসদরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের অভিমুখে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন এবং সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ উচ্চপদস্থ নির্দেশিকা অনুযায়ী উক্ত সংবেদনশীল এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের জোরপূর্বক আটক করে।

পুরো আন্দোলন প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, দেশের ছাত্র-যুবদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন খুব শীঘ্রই স্বাধীনোত্তর ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভে রূপ নিতে চলেছে। তিনি জানান, গত ৩১ দিন ধরে যন্তর মন্তরে মহাত্মা গান্ধী ও বি আর আম্বেদকরের সংবিধানসম্মত আদর্শকে পুরোপুরি মেনে সিজেপি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। কিন্তু গত ২০ জুলাই কোনো ধরনের উসকানি বা প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ অতর্কিতভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠি চালিয়েছে। দেশের তরুণ ও যুব সমাজ আর কোনোভাবেই চুপ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এই আন্দোলনকে বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট করার নানা কুচেষ্টা চালানো হলেও মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিন্দুমাত্র পিছু হটবেন না।