২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আর এই মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে দলের ডিজিটাল সৈনিকদের রণকৌশল বাতলে দিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশাল সোশ্যাল মিডিয়া কনক্লেভ থেকে দলের কর্মীদের সাফ জানিয়ে দিলেন— লক্ষ্য এবার একক নেতার প্রচার নয়, লক্ষ্য হোক ‘জোড়াফুল’।
ব্যক্তির থেকে বড় দল, কড়া বার্তা সেনাপতির এদিন মঞ্চ থেকে অভিষেক অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট ‘ছোট, সেজো বা মেজো’ নেতার জয়ধ্বনি দেওয়া চলবে না। পরিবর্তে প্রচার করতে হবে দলের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “কিছু নেতা সস্তায় লাইক বা শেয়ার পেতে উল্টোপাল্টা পোস্ট করেন। এমন কাজ করবেন না। প্রতি ওয়ার্ড এবং প্রতি অঞ্চলে উন্নয়নের কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরুন।”
ডিজিটাল যুদ্ধের রোডম্যাপ অভিষেকের মতে, আসন্ন নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়াই তৃণমূলের সবথেকে বড় অস্ত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ডিজিটাল যোদ্ধাদের কাজে খুশি বলে জানান তিনি। বিজেপির বিশাল অর্থবল এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপটের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রধান ভরসা এই ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’রা। অভিষেকের বার্তা, “ওদের টাকা আছে, ইডি-সিবিআই আছে। কিন্তু আমাদের আছে হাজার হাজার লড়াকু যোদ্ধা, যারা বুকের রক্ত দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে।”
২৬-এর টার্গেট: ২৫০ আসন! নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। হাতে সময় মাত্র ১১০ দিন। এই সময়ের মধ্যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ অভিষেক। তাঁর নির্দেশ:
বিজেপির ‘মিথ্যার বেড়াজাল’ চূর্ণ করতে হবে।
বিজেপি নেতাদের আলটপকা মন্তব্য বেশি করে প্রচার করতে হবে।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং আটকে রাখা টাকার হিসেব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
অভিষেক এদিন স্পষ্ট করে দেন, ২০২৬-এ ২৫০টি আসন পেতেই হবে। আর সেই লক্ষ্যপূরণে সোশ্যাল মিডিয়াকে ঢাল ও তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।





