“সরকারের পাপের দায় ধুতে হচ্ছে”- কালো পোশাক পড়ে পরীক্ষায় বসলেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা

দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ, রবিবার, বহু প্রতীক্ষিত স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষা শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়, ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়া ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের জন্যও এক ‘অগ্নিপরীক্ষা’। তারই প্রতিবাদে কালো পোশাক পরে পরীক্ষা দিতে এলেন চাকরিহারাদের একাংশ।

বারুইপুরের বাসিন্দা এবং চাকরিহারা শিক্ষক মেহবুব মণ্ডল সোনারপুর বিদ্যাপীঠে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের সামনে তিনি তার ক্ষোভ উগরে দেন।

মেহবুব মণ্ডল এই পরিস্থিতিকে ‘সতীদাহ প্রথা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “সতীদাহ প্রথায় যেমন জোর করে মেয়েদের চিতায় তুলে পোড়ানো হত, গ্যালিলিও-কোপারনিকাসকে যেমন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, এটা আমাদের সেই শাস্তি।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের পাপের দায় আমাদের ধুতে হচ্ছে। জানি না এর পরিণতি কী হবে।” এরই প্রতিবাদে তিনি কালো পোশাক পরেছেন বলে জানান।

আরেকজন চাকরিহারা প্রার্থীও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চক্রান্তের শিকার হয়েছি। সেদিন যদি স্বচ্ছতা থাকত, তবে আমাদের এই শাস্তি ভোগ করতে হতো না। আজও যে দুর্নীতি হবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে দেয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ১০৬ মাস পর আবার এই পরীক্ষা হচ্ছে। তবে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ‘দাগি’ প্রার্থী যেন পরীক্ষায় বসতে না পারে। তা সত্ত্বেও, পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টা আগেও এসএসসি এই বিষয়ে কোনো নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেনি, যা দুর্নীতির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।