উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ফের অবৈধ ও অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামল জেলা প্রশাসন। লোনির অশোক বিহার এলাকায় অবস্থিত ‘মাদ্রাসা ইসলামিয়া কাশিফুল উলুম’কে সিল করে দিল প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, বৈধ নথিপত্র এবং স্বীকৃতি ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিল। বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক কৈলাশ চন্দ্র তিওয়ারির নেতৃত্বে চালানো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের অধীনে নিবন্ধিত ছিল না। এছাড়া, এর কাছে কোনো বৈধ স্বীকৃতি বা শংসাপত্রও ছিল না। অগ্নিনির্বাপণ দফতরের ফায়ার সেফটি অনাপত্তি শংসাপত্র (এনওসি)-সহ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রেরও চূড়ান্ত অভাব ছিল। এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে মৌলিক বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক, তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ আইনি সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। বৈধতার প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর বা নথিপত্র জমা না পড়ায় প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ডিসিপি দেহাত সুরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি জানিয়েছেন, লোনির অশোক বিহার এলাকার এই মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছিল। সিলগালার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারজন এসিপি, ছয়জন থানা ইনচার্জ এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গাজিয়াবাদে সম্প্রতি অবৈধ ও অস্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সম্প্রতি একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েকদিনে খোড়া এবং কনাওয়ানি এলাকাতেও একাধিক মাদ্রাসার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নথিপত্র যাচাইয়ের এই বিশেষ অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।





