“পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত!” বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা ডিভিশন নম্বর দেওয়া নিয়ে স্পিকারকে তোপ দাগলেন অভিষেক

লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবার আরও বেশি করে প্রকাশ্যে চলে এল। দলের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্যকারী বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন আগেই জানানো হয়েছিল। তবে এবার সেই দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিদ্রোহী সাংসদদের লোকসভায় আলাদা আসন বা ‘ডিভিশন নম্বর’ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ সংসদীয় নীতি ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জোরালো ভাষায় জোড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
ঠিক কী নিয়ে এই নতুন বিবাদ? গত ১৮ জুলাই লোকসভা সচিবালয় থেকে একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করা হয়। তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের ডিভিশন নম্বর বা বসার স্থান পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আর সচিবালয়ের এই একতরফা পদক্ষেপ ঘিরেই নতুন করে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। সচিবালয়ের এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারকে পাঠানো চিঠিতে অভিষেক তাঁর প্রধান ও জোরালো যুক্তিগুলি তুলে ধরেছেন:
সদস্যপদ খারিজের আর্জি: গত ১৯ জুন অভিষেক নিজে ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকারের কাছে বরখাস্তের (Disqualification Petitions) আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিলেন, যা বর্তমানে আইনগতভাবে বিচারাধীন রয়েছে।
স্বীকৃতির প্রশ্ন: দলত্যাগী এই সাংসদরা এনসিপিআই (NCPI) নামক একটি দলের সঙ্গে হাত মেলালেও, সংসদ বা দেশের কোনও রাজ্য বিধানসভায় এটি কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
আইনগত অসংগতি: দলত্যাগ করা এই সাংসদদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কোনও রকম আইনি ‘মার্জার’ বা বিলীনকরণ ঘটেনি। পুরো বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কেবল তাঁদের একতরফা আবেদনের ভিত্তিতে আলাদা আসন বরাদ্দ করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও নিয়মবহির্ভূত।
স্পিকারের দফতরকে অভিষেকের স্মরণ করিয়ে দেওয়া তথ্য অভিষেকের পাঠানো চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, লোকসভা সচিবালয় তাদের ১৮ জুলাইয়ের সার্কুলারে নিজেই স্বীকার করেছে যে লোকসভায় তৃণমূলের মোট আসন সংখ্যা ২৮ এবং অভিষেক নিজে ওই সংসদীয় দলের স্বীকৃত দলীয় নেতা। অর্থাৎ, স্পিকারের দফতর যে তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি একক ব্লক (Single Block of 28 MPs) হিসেবেই গণ্য করছে, তা অত্যন্ত পরিষ্কার।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী গ্রুপের একতরফা আবেদনের ভিত্তিতে পুরো দলের সাংসদদের বসার ব্যবস্থা বা আসন বিন্যাস পরিবর্তন করাকে তিনি সংসদীয় বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন। অবিলম্বে লোকসভা সচিবালয়ের ওই বিতর্কিত সার্কুলার বাতিল করে ২৮ জন সাংসদেরই পূর্ববর্তী বসার আসন বহাল রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার অন্দরে এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন আগামী দিনে ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলের।