বনগাঁর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং তনয় শাস্ত্রীর আইনি লড়াই এখন টলিপাড়ার অন্যতম চর্চার বিষয়। গত ২৫ জানুয়ারির সেই ঘটনা আজও খবরের শিরোনামে। ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকলেও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছন। রাত সাড়ে ১০টায় মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও, মিমির দেরি হওয়ায় অনুষ্ঠান পরিচালনার সময়সীমা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সেই রাতে অনুষ্ঠানস্থলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরে আইনি মোড় নেয়।
এই ঘটনার জেরে মিমির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তনয় কিছুদিন জেল হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। এরপরই তিনি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মিমির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তনয়ের আইনজীবী, বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আদালতের কাছে মিমির বিরুদ্ধে অবিলম্বে চার্জশিট গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। আইনজীবীর যুক্তি, মামলার শুনানির জন্য একাধিকবার তারিখ থাকলেও মিমি আদালতে হাজির হননি। আবেদনটি মঞ্জুর হলে মিমির জন্য আদালতে সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক হতে পারে বলে মনে করছে আইনি মহল।
এই পরিস্থিতিতে টলিপাড়ায় নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে। মিমি চক্রবর্তী বরাবরের মতোই ব্যক্তিগত বিষয়ে সংযত থাকলেও, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। অভিনেত্রীর দাবি, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য বা দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার চললে তিনি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবেন না। পাশাপাশি, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যথাযথ যাচাই করার জন্য সংবাদমাধ্যম ও নেটিজেনদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে এই বহুচর্চিত মামলার প্রতিটি পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। মিমির বিরুদ্ধে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। মিমি চক্রবর্তী কি আগামী শুনানিতে আদালতে হাজিরা দেবেন, নাকি এই আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হবে—সেদিকেই এখন নজর সকলের। বনগাঁ কাণ্ডের এই আইনি টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





