ভারতের তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন। দীর্ঘদিনের ডিজিটাল আন্দোলনের পর এবার সরাসরি রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। আগামী ৬ জুন ভারতে পা রেখেই তিনি NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সূচনা করতে চলেছেন। তাঁর মূল দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
বস্টন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় অভিজিৎ এই CJP-এর জন্ম দিয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্যের জেরে ছাত্রসমাজের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, তাকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুসংগঠিত করেছিলেন তিনি। আজ সেই CJP-র হাত ধরে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এক পতাকার নিচে জড়ো হয়েছেন। অভিজিতের কথায়, “১ কোটি পড়ুয়া আজ ক্ষতিগ্রস্ত। NEET, CBSE এবং CUET-এর মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষায় যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার দায় কে নেবে?”
৮ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র নিয়ে তিনি রাজপথে নামছেন। তিনি জানিয়েছেন, লখনউ, জয়পুর এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই জনবিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, “এত বড় বিপর্যয়ের পরও যদি মন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তবে স্পষ্ট যে দেশে নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। সিস্টেমের ব্যর্থতার খেসারত ছাত্ররা কেন দেবে?”
আগামী ৬ জুন দিল্লিতে পৌঁছে তিনি যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ ধরণার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবেন। গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকলেও অভিজিৎ পিছু হটতে নারাজ। তিনি বলেন, “পরিবার ও বন্ধুরা আমার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, তবে আমি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আস্থাশীল। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, ভগৎ সিংহ এবং নেহরুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি মনে করি, সংবিধান আমাদের প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। আর যদি জেলে যেতেই হয়, তবে সেই আত্মত্যাগই হোক আগামীর লড়াইয়ের প্রেরণা।”
তিনি দেশের আপামর ছাত্রসমাজ ও যুব সম্প্রদায়কে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করার লড়াই। সিস্টেমের এই অনাচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে সরব হওয়ার জন্য সকল দেশবাসীকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন এই তরুণ নেতা।





