শেখ হাসিনা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধী’ দোষী সাব্যস্ত! সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ, সোমবার, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

এই রায় ঘিরে গোটা বাংলাদেশে তীব্র উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রায় ঘোষণার পরপরই হাসিনার দল আওয়ামী লীগ সারাদেশে পূর্ণ শাটডাউনের ডাক দিয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে যা উঠে এল:

এটিই প্রথম মামলা, যা গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:

  • যৌথ অপরাধমূলক চক্র: বিচারক জানান, শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন—এই তিনজন মিলেই একটি যৌথ অপরাধমূলক চক্র গঠন করেছিলেন।

  • সরাসরি নির্দেশ: রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি নির্দেশেই প্রতিবাদীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়।

  • নিহতের সংখ্যা: রায়ে উঠে আসে, এই সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সেনাবাহিনীর রাইফেলের গুলিতে প্রাণ হারান।

  • দমন-পীড়ন: ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকার প্রতিবাদীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। প্যারামিলিটারি বাহিনী হামলায় অংশ নেয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

  • ভিডিয়ো প্রমাণ: কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছে

  • নথি বিকৃতি: চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যাতে তাঁরা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পরিবর্তন করেন।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এই মামলার নথি, ভিডিও এবং সাক্ষ্য সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

অভিযুক্ত কারা?

 

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন:

  • প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আসাদুজ্জামান খান কামাল

  • প্রাক্তন আইজিপি: চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান দু’জনেই পলাতক এবং ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

উত্তাল রাজধানী ঢাকা

 

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে পরিস্থিতি তপ্ত। বিবিসি সূত্রের খবর, রবিবার রাতেও ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাস ও দোকানে আগুন ধরানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। রাতভর মশাল মিছিলও হয়েছে। এমনকি ইউনূস সরকারের একজন উপদেষ্টার বাসভবনের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

  • সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাইরে গণঅধিকার পরিষদ ও মঞ্চ-২৪ -এর কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন, “শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”

  • প্রশাসনের নির্দেশ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিক্ষোভে জড়িতদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

হাসিনার আইনজীবীর দাবি

 

শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী দাবি করেছেন, “কোনও হেলিকপ্টার আন্দোলন ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়নি। কাউকে হাসিনা অপমান করেননি। আন্দোলন দমনে নিজে সরাসরি যোগও দেননি।”