রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম সপ্তাহেই মিলল এক বিরাট সাফল্য। পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে একগুচ্ছ নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিল কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চল— রাজ্যের সমস্ত প্রান্তের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৃথক তিনটি চিঠি পাঠিয়ে এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে রেলমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনার ভিত্তিতেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই প্রকল্পগুলিতে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ফাইলগুলি ছাড়পত্র পাওয়ায় রাজ্যের রেল মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।
১. উত্তরবঙ্গে রেলের গতি বাড়াতে মাস্টারস্ট্রোক
উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগকে আরও মসৃণ ও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রেলমন্ত্রক। নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৭.১৫ কিলোমিটার নতুন ডবল লাইন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
২. জঙ্গলমহলে এবার নতুন ট্রেন পরিষেবা
দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল অঞ্চলের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাঁতরাগাছি থেকে খড়্গপুর হয়ে ঝাড়গ্রামের জয়পুর পর্যন্ত চলা ১৮০৬১/১৮০৬২ এক্সপ্রেস ট্রেনটির রুট এবার আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এই ট্রেনটি এখন সরাসরি জয়পুর পর্যন্ত যাতায়াত করবে। এর ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সহজে ও সরাসরি কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
৩. পশ্চিমাঞ্চলে ১০৭ কিমি নতুন রেললাইন
সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আনা হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। শালবনি থেকে আদ্রা পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন তৈরির প্রথম ধাপ হিসেবে ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভে (FLS)-এর অনুমোদন দিয়েছে রেল বোর্ড। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন লাইনটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শিল্প ও পণ্য পরিবহণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।





