আসামের নগাঁও জেলায় বন্য হাতির দুটি পৃথক হামলায় প্রাণ হারালেন দুই ব্যক্তি। শুক্রবার সামাগুরি এলাকায় ঘটা এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় পুরো রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি আসামের গ্রামীণ ও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দিন দিন বাড়তে থাকা মানুষ-হাতি সংঘাতের এক ভয়াবহ রূপকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে সামাগুরির বাজিগাঁও এলাকায়। শরিফুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় কৃষক প্রতিদিনের মতোই নিজের সবজি ক্ষেতে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই সময় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে একটি বুনো হাতি আচমকাই লোকালয়ে বেরিয়ে আসে এবং শরিফুলের ওপর আক্রমণ চালায়। হাতির হামলায় তিনি গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাগুরির অন্য একটি অংশে দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রণব দাস নামে এক যুবক বন্য হাতির মুখোমুখি পড়ে যান। হাতিটি তাকে তুলে আছাড় মারলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রণবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শরীরের ভেতরের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের তৎপরতা
পরপর দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সামাগুরি এবং তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বনাঞ্চল সংলগ্ন লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতিরা প্রায়ই ঢুকে পড়ছে এবং ফসলের পাশাপাশি মানুষের জীবনের সুরক্ষাকে বিপন্ন করছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ড্রোন এবং বিশেষ নজরদারি দল পাঠিয়ে হাতিটির বর্তমান অবস্থান ও গতিবিধি ট্র্যাক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বন আধিকারিকেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার পর জঙ্গলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে একা যাতায়াত না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেন বাড়ছে এই সংঘাত?
পরিবেশবিদ এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল রয়েছে দ্রুত বন উজাড় হওয়া এবং হাতির প্রাকৃতিক বাসস্থান ও তাদের যাতায়াতের পুরনো পথগুলো (কোরিডোর) ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মধ্যে। বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসায় হাতির দল খাবারের খোঁজে মানুষের বসতি ও কৃষি জমিতে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আসামের শুধু নগাঁও নয়, গোয়ালপাড়া, সোনিতপুর, উদালগুড়ি এবং গোলাঘাটের মতো জেলাগুলোতেও প্রায় নিয়মিত এমন প্রাণঘাতী সংঘাতের খবর মিলছে।
ভবিষ্যতে এই ধরণের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সামাগুরির বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলদারি বাড়ানো এবং হাতি তাড়ানোর আধুনিক প্রতিবন্ধক বা সৌরবিদ্যুতের বেড়া দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।





