রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়েছে টলিপাড়ায়। পূর্বতন সরকারের ‘বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ’ করার অভিযোগ ঝেড়ে ফেলে এবার স্টুডিও পাড়াকে রাজনীতিমুক্ত করার ডাক দিয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “ভয় আউট, ভরসা ইন।” টলিউডের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নবনির্বাচিত চার বিধায়ক—রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশন ও ইমপার (IMPA) অন্দরে চলা সিন্ডিকেট রাজ ও দাদাগিরি রুখতে এবার সরব হয়েছেন টলি-ব্যক্তিত্বরা। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ কয়েক বছর পর ইমপা অফিসে পা রাখেন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান পরিচালক গৌতম ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার নবনির্বাচিত শরিফ। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গৌতম ঘোষ বলেন, “আগে পরিবেশ এতটাই বিষাক্ত ছিল যে আসার রুচি হতো না। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতার কাছেও সিনেমার বাজেট জানতে চাইছে ফেডারেশন—এটা অবিশ্বাস্য! প্রযোজক ও পরিবেশকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে বাইরের লগ্নি আসবে না, যা ধুঁকতে থাকা বাংলা সিনেমার জন্য চরম বিপদ।”
অন্যদিকে, ইমপার অন্দরেও বিদ্রোহের সুর। ক্ষুব্ধ প্রযোজকরা বর্তমান ইসি কমিটি ভেঙে নতুন নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। এই অচলাবস্থা কাটাতে আগামী ২২ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। টলিপাড়াকে রাজনীতির উর্ধ্বে রেখে শিল্পীদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়াই এখন নতুন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।





