কাঙাল পাকিস্তানের হাতে বিপুল ‘ড্রাগন’ তহবিল! আন্তর্জাতিক মঞ্চে জিনপিংয়ের এই গোপন চাল ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ?

চরম আর্থিক সংকটের মাঝেই চিনের বাজারে এক অভূতপূর্ব চাল চালল পাকিস্তান। বেজিংয়ের পুঁজিপাতিলোক থেকে সরাসরি তহবিল সংগ্রহ করতে এই প্রথমবার চিনা বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’ (Panda Bond) জারি করল ইসলামাবাদ। প্রথম দফাতেই এই বন্ডের মাধ্যমে চিনা মুদ্রা ‘রেনমিনবি’ বা আরএমবি-তে (RMB) প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল্য তহবিল তুলতে সক্ষম হয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। এর মাধ্যমে চিনের অভ্যন্তরীণ পুঁজিবাজারে সরাসরি প্রবেশাধিকার পেয়ে গেল পাকিস্তান।

কী এই ‘পান্ডা বন্ড’?
সহজ ভাষায়, যখন কোনও বিদেশী রাষ্ট্র, বহুজাতিক সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংগঠন চিনের বাজারে গিয়ে তাদের নিজস্ব মুদ্রা রেনমিনবি-তে ঋণপত্র বা বন্ড বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করে, তাকে আর্থিক পরিভাষায় ‘পান্ডা বন্ড’ বলা হয়। চিনের মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীদের থেকে সরাসরি টাকা তোলার এটি একটি অন্যতম বড় মাধ্যম।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের উপদেষ্টা খুররম শাহজাদ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই ঐতিহাসিক লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জারি করা এই প্রথম পান্ডা বন্ডের মেয়াদ তিন বছর। এর সুদের হার ধার্য করা হয়েছে ২.৫ শতাংশ, যা চিনের বাজারে স্থিতিশীল সুদের হারের একটি বড় উদাহরণ।

বিশ্বজুড়ে ঋণের জাল, টাকা জোগাতে মরিয়া ইসলামাবাদ
আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং পুরনো আন্তর্জাতিক ঋণ শোধ করতেই পাকিস্তানের এই মরিয়া চেষ্টা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টাকা তুলতে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের ‘ইউরোবন্ড’ জারি করেছিল পাকিস্তান।

এখানেই শেষ নয়, দেনার দায়ে জর্জরিত পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরবের কাছ থেকে আমানত হিসেবে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। কারণ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) পাওনা ৩৪০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের ওপর তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ ছিল। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) থেকে দুটি পৃথক ঋণ সুবিধার অধীনে আরও ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার পেয়েছে পাকিস্তান।

কেন এই বন্ডকে বড় চাল মনে করছে বিশেষজ্ঞরা?
পাক সরকারের উপদেষ্টা খুররম শাহজাদের দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক লেনদেন নয়, বরং চিন ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক এবং আর্থিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়। এই বন্ডের সাফল্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB) এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের (AIIB) মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেভাবে আমেরিকা বা ইউরোপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তান সম্পূর্ণ চিনা মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে, তাতে ইসলামাবাদের ‘চিন-নির্ভরতা’ আরও বহুগুণ বেড়ে গেল। একদিকে চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর বিপুল দেনা, আর অন্যদিকে এই পান্ডা বন্ড— সব মিলিয়ে ড্রাগনের ঋণের ফাঁদে পাকিস্তান আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেল কিনা, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে চর্চা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy