ভোটের লড়াই শুরু হতেই তারকা প্রার্থীদের সম্পত্তির হিসেব নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী লাভলি মৈত্র নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে তাঁর সম্পদের অভাবনীয় বৃদ্ধির চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে তাঁর সোনার গয়নার ভাণ্ডার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে।
১ কেজি সোনার মালিক লাভলি!
হলফনামা অনুযায়ী, লাভলি মৈত্রের কাছে বর্তমানে রয়েছে ১০০০ গ্রাম বা ১ কেজি সোনার গয়না। বর্তমান বাজারমূল্যে যার দাম প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাঁর গয়নার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু লাভলি নন, তাঁর স্বামী তথা পুলিশ আধিকারিক সৌম্য রায়ের কাছেও রয়েছে প্রচুর গয়না।
৫ বছরে ৫ গুণ বাড়ল সম্পত্তি?
২০২১ সালের হলফনামায় লাভলির মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৬-এর হলফনামা বলছে, সেই অঙ্ক এখন কয়েক কোটি ছাড়িয়েছে। সম্পত্তির বৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্র:
নগদ টাকা: লাভলির হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ৯০ হাজার টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্বামীর হাতে রয়েছে ২০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি: আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোটি টাকার গয়না থাকলেও লাভলি মৈত্রের নিজের নামে কোনো বাড়ি নেই।
ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স: বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিনিয়োগেও লাভলি ও তাঁর স্বামীর সম্পদের পরিমাণ গত ৫ বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বামীর সম্পত্তিতেও বড় লাফ
লাভলির স্বামী সৌম্য রায়ের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২১ সালে তাঁর নামে ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০০ টাকার সম্পত্তি ছিল, যা বর্তমানে আকাশছোঁয়া। একজন আইপিএস অফিসারের স্ত্রী এবং নিজে বিধায়ক হওয়ায় এই বিপুল বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপি এবং বামফ্রন্টের দাবি, পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তি ম্যাজিকের মতো বাড়ছে। যদিও লাভলি মৈত্র এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, সমস্ত হিসেব বৈধ এবং তিনি নিয়ম মেনেই হলফনামা পেশ করেছেন। বিনোদন জগত থেকে আয়ের কারণেই তাঁর এই স্বচ্ছ সম্পদ বৃদ্ধি বলে তাঁর দাবি।
উপসংহার: ১০০০ গ্রাম সোনা আর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি—লাভলি মৈত্রের হলফনামা কি সোনারপুর দক্ষিণে তাঁর জয়ে বাধা হবে নাকি ‘স্টার ফ্যাক্টর’ আর উন্নয়নের প্রচারেই পার পাবেন তিনি? উত্তর মিলবে ২৯ এপ্রিলের ভোটে।





