লন্ডন-টোকিওর পরেই নবি মুম্বই, দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল বিমানবন্দর, ওয়াটার ট্যাক্সিতেই পৌঁছনো যাবে টার্মিনালে

এক আন্তর্জাতিক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ, ৮ অক্টোবর, বুধবার নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করলেন। এই বিমানবন্দরটি চালু হলে শুধু মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে চাপ কমবে না, বরং পশ্চিম ভারতের বিমান চলাচলের মানচিত্রেও বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং টোকিওর পর একাধিক বিমানবন্দর বিশিষ্ট শহর হিসেবে এবার নাম লেখাতে চলেছে নবি মুম্বই। প্রায় শেষ হয়ে আসা এই বিমানবন্দর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে উড়ান চালু হয়ে যাবে।
বিমানবন্দরের উদ্বোধন ছাড়াও আজ প্রধানমন্ত্রী মুম্বই মেট্রো লাইন–৩-এর নতুন ধাপ চালু এবং ‘মুম্বই ওয়ান’ মোবিলিটি অ্যাপের উদ্বোধন করেন।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল, এআই-যুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর
নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি একগুচ্ছ অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ইতিমধ্যেই শিরোনামে:
দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল বিমানবন্দর: এখানে ডিজিটালি প্রি-বুকিং গাড়ি পার্কিং স্লট থাকবে। অনলাইন ব্যাগেজ ড্রপ ও অভিবাসন পরিষেবাও ডিজিটালি করা হবে।
সম্পূর্ণ অটোমেটেড: এটি একটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যুক্ত বিমানবন্দর।
জলপথে সংযোগ: এটিই হবে ভারতের প্রথম বিমানবন্দর, যেখানে জলপথে (ওয়াটার ট্যাক্সি) যাত্রী আগমন ও গমন সম্ভব হবে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: এই বিমানবন্দরে ৪৭ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (SAF)-এর জন্য স্টোরেজ থাকবে।
নির্মাণ ও ক্ষমতা: এশিয়ার বৃহত্তম হাবের পথে
১,১৬০ হেক্টরের বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মিত এই বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে আদানি গোষ্ঠী এবং মহারাষ্ট্র সরকারের ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সিডকো-র সহায়তায় সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রাথমিক ক্ষমতা: বর্তমানে এটি বছরে প্রায় ২ কোটি যাত্রী চলাচলের উপযুক্ত করে গড়া হয়েছে এবং একটি রানওয়ে দিয়েই প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করবে।
চূড়ান্ত ক্ষমতা: সম্পূর্ণ হয়ে গেলে, এখানে চারটি টার্মিনাল ও ২টি রানওয়ে কাজ শুরু করবে এবং এটি বছরে ১৫.৫ কোটি যাত্রী চলাচলের উপযুক্ত হয়ে উঠবে।
খরচ: আদানি গোষ্ঠীর সহায়তায় প্রথম পর্যায়ে ১৯,৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। চারটি টার্মিনাল তৈরির কাজ শেষ হলে মোট খরচ ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
কার্গো ক্যাপাসিটি: এই এয়ারপোর্টের বার্ষিক কার্গো ক্যাপাসিটি হবে ৩২.৫ লক্ষ মেট্রিক টন।
আদানি গ্রুপ এই মেগা প্রকল্পের ৭৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব পাবে, বাকি ২৬ শতাংশ থাকবে সিডকো-র হাতে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই এয়ারপোর্ট এশিয়ার বৃহত্তম অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।