টাটা সন্সের ‘সুপার বোর্ড’ ভাঙতে কড়া নির্দেশ অমিত শাহ-নির্মলা সীতারমনের! কাদের ক্ষমতা কাড়তে চলেছে সরকার?

ভারতের বৃহত্তম কংগ্লোমারেট টাটা গ্রুপ-এর হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্স-এর অভ্যন্তরে চলতে থাকা অস্থিরতা ও কোন্দল রুখতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন-এর সঙ্গে টাটা ট্রাস্ট ও টাটা সন্সের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর এই ঘটনা সামনে এসেছে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস (The Economic Times) সূত্রে খবর, টাটা ট্রাস্টের চারজন ট্রাস্টি একটি “সুপার বোর্ড” হিসেবে কাজ করছেন, যা কার্যত বর্তমান চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা-র ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে এবং সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে।

সরকারের কড়া বার্তা: ‘জনগণের জন্য দায়িত্ব’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নোয়েল টাটা, ভাইস-চেয়ারম্যান ভেনু শ্রিনিবাসন, টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এবং ট্রাস্টি ডারিয়াস খাম্বাটা। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কোনোভাবেই টাটা সন্সের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারবে না।

মন্ত্রীরা টাটা ট্রাস্টের নেতৃত্বকে কার্যকর এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এমন কোনো ট্রাস্টির পরিবর্তন, যিনি গ্রুপের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করতে পারেন। মন্ত্রীরা মনে করিয়ে দেন, টাটা ট্রাস্টের বৃহত্তর শেয়ার (প্রায় ৬৬%) যেহেতু হোল্ডিং করে, তাই গ্রুপের আকার, বাজার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে এটি “জনগণের জন্য দায়িত্ব” বহন করে।

কোন্দলের কেন্দ্রে চার ট্রাস্টি: গভর্ন্যান্সে উদ্বেগ
সূত্রের খবর, বর্তমানে এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন চারজন ট্রাস্টি—ডারিয়াস খাম্বাটা, জেহাঙ্গির এইচসি জেহাঙ্গির, প্রমিত ঝাভেরি ও মেহলি মিস্ট্রি।

অভিযোগ উঠেছে, এই চারজন ট্রাস্টি বোর্ড মিটিং মিনিট যাচাই এবং স্বাধীন পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন, যা সংস্থার কর্পোরেট গভর্ন্যান্সে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রয়াত রতন টাটার মৃত্যুর পর (অক্টোবর ২০২৪) থেকে ট্রাস্টের এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্টত বৃদ্ধি পেয়েছে। চারজন ট্রাস্টি ডোরাবজি টাটা ট্রাস্টের পক্ষ নিয়েছেন, অন্যদিকে নোয়েল টাটা ও আরও তিনজন ট্রাস্টি বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন।

বাজারে মিশ্র প্রভাব: বাড়ল TCS, কমল Tata Motors
এই উত্তেজনার মাঝেও আজ বাজারে টাটা গ্রুপের শেয়ার মূলধনে মিশ্র প্রভাব দেখা গেছে।

টাইটান কোম্পানি প্রায় ৪% উর্ধ্বমুখী হয়ে ৩,৫৫২.৮০ টাকায় পৌঁছেছে।

TCS-এর শেয়ার ২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

টাটা স্টিল এবং ট্রেন্ট-এর মতো সংস্থাও সামান্য বৃদ্ধি দেখেছে।

তবে, টাটা মোটর্স-এর শেয়ার এদিন হ্রাস পেয়েছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ট্রাস্টের গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত প্রশ্নগুলি বর্তমানে সরকারি ও বাজার উভয়েরই কড়া নজরদারিতে রয়েছে।