প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর গদি টলবে? নতুন সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বড় ছক কষছে কেন্দ্র?

আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। সূত্রের খবর, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সংবিধান সংশোধনী বিল (১৩০তম) পেশ করতে পারে নরেন্দ্র মোদী সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক চালের অংশ হতে পারে।
কী রয়েছে ওই বিতর্কিত বিলে? ২০২৫ সালের আগস্টে প্রথমবার উত্থাপিত এই বিল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের কোনো মন্ত্রী যদি পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁদের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। গতবার বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মুখে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (JPC) পাঠানো হয়েছিল। আসন্ন অধিবেশনে সেই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যারপরই বিলটি পুনরায় সংসদে পেশ হতে পারে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাঁটা: যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই এটি পাশ করাতে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। আপাতত অঙ্কটা সরকারের পক্ষে খুব একটা সহজ নয়। গতবার বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংখ্যার অভাবে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল শাসকদলকে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই (NCPI) নামক দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবং উদ্ধব ঠাকরে শিবসেনার বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থনের ওপর বাজি ধরছে এনডিএ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিলটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এটি সরকারের ‘ফ্লোর টেস্ট’ বা শক্তি পরীক্ষার একটি মাধ্যমও বটে। বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারগুলোকে অস্থির করে তোলার জন্য এই বিলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাদল অধিবেশনের আগে মোদীর মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে জল্পনা চললেও, বিল পাশের অঙ্কের সমীকরণে মন্ত্রিসভার রদবদল পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হলে মোদী সরকার কত ভোট নিজের পক্ষে টানতে পারে, সেদিকেই এখন নজর দিল্লির অলিন্দে।