চলতি বছরে বিদ্যুতের চাহিদা কি সব রেকর্ড ভেঙেছে? জানুন মে ও জুনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

চলতি বছর তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বিলম্বিত বর্ষার জোড়া ফলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমস্ত পুরোনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহার ১১.৬২ শতাংশ বেড়ে ১৬৬.৪৬ বিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। যেখানে গত বছর জুন মাসে এই ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১৪৯.১৩ বিলিয়ন ইউনিট।

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ল কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার দেরিতে আগমন এবং একটানা তাপপ্রবাহের কারণে এসি (AC) এবং কুলারের মতো শীতলকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদায়। জুন মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬৪.৭৬ গিগাওয়াট, যা গত বছরের তুলনায় বেশ বেশি।

মে মাসের সেই রেকর্ডব্রেক গরম এই বছর মে মাসেই বিদ্যুতের চাহিদা আকাশছোঁয়া পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে মে মাসের ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত টানা চারদিন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড করা হয়েছিল:

  • ১৮ মে: ২৫৭.৩৭ গিগাওয়াট

  • ১৯ মে: ২৬০.৪৫ গিগাওয়াট

  • ২০ মে: ২৬৫.৪৪ গিগাওয়াট

  • ২১ মে: ২৭০.৮২ গিগাওয়াট (সর্বকালের সর্বোচ্চ)

জুলাই মাসে কী হতে পারে? ভারত আবহাওয়া বিভাগ (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় বর্ষা শুরু হয়েছে ৪ জুন। তবে জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাইয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী দিনে বর্ষার প্রকোপ বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা কমতে পারে।

সরকারের ২৭৭ গিগাওয়াটের অনুমানের তুলনায় বর্তমান চাহিদা কিছুটা কম হলেও, প্রচণ্ড গরমের এই ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশ। এখন আপামর জনতা তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে—কবে বর্ষা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাপপ্রবাহের এই দাবদাহ থেকে মুক্তি দেয়।